মোহাইমিনুল ইসলাম, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ১০ জুন ২০২৬ , ৮:৫৯:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি তবকপুর ইউনিয়নের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণকাজ, রাতের বেলায় কার্পেটিং এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নির্মাণকাজ অব্যাহত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রেসক্লাবের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাংবাদিক সোহেল রানার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার। সাংবাদিকের দাবি, এর আগে সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের বিষয়টি তাকে অবহিত করা হলে তিনি কাজ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তীতে সরেজমিনে অভিযোগ ওঠে যে, রাতের বেলায়ও কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান ছিল। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় যোগাযোগ করলে উপজেলা প্রকৌশলী সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মতে, এ সময় ব্যবহৃত কিছু মন্তব্য পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী এবং গণমাধ্যমের প্রতি অসম্মানজনক।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফিরোজ কবির কাজলসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সাংবাদিককে চাপ প্রয়োগ বা হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন, তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ, রাতের বেলায় কাজ পরিচালনা এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ—সব বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি অনুসরণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, “একজন উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে এ ধরনের আচরণ বা হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া মোটেও কাম্য নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক থাকা উচিত। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের অনিয়ম সম্পর্কে অবগত থেকে থাকে, তাহলে অভিযোগের পরও কাজ কেন চলমান ছিল? আবার যদি কোনো অনিয়ম না হয়ে থাকে, তবে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের প্রয়োজন কেন দেখা দিল?
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।




















