মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: ১০ জুন ২০২৬ , ৯:১৯:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের সীমান্ত রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সনদপত্র বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত সুরক্ষায় নয়, প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফ্রিল্যান্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বিজিবির মূল দায়িত্বের অংশ না হলেও তরুণদের জন্য তাদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” তিনি বিজিবিকে একটি জনবান্ধব বাহিনী হিসেবেও উল্লেখ করেন।
১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আনসার ও ভিডিপির রাজশাহী রেঞ্জের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া এবং পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কড়িয়া বিওপি ও ভূটিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ‘সীমান্ত ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার’ নামে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে যাত্রা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন ব্যাচে মোট ১০৫ জন শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে আরও ১৬ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
এর মধ্যে কড়িয়া বিওপি সংলগ্ন কেন্দ্রে তিনটি ব্যাচে ৩৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং চতুর্থ ব্যাচে ১০ জন প্রশিক্ষণরত রয়েছেন। অন্যদিকে ভূটিয়াপাড়া বিওপির অধীনে ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদে পরিচালিত কেন্দ্রে চারটি ব্যাচে ৬৯ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে পঞ্চম ব্যাচে ছয়জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার যুবসমাজ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণদের দূরে রাখতেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে সফল প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।




















