সারাদেশ

গৃহবধূ রিমুর মৃত্যু: পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

  এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার ১০ জুন ২০২৬ , ৯:৩৪:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরে সাবিয়া ইয়াসমিন রিমু (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন রিমুর পিতা মো. শফিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে রিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রিমু প্রায় তিন মাস বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন। পরে দুই পরিবারের উদ্যোগে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।

পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার কয়েকদিন পর গত ৩ জুন রিমুর মৃত্যু হয়। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও নিহতের পরিবারের ভাষ্য, ঘটনাস্থল ও মরদেহের বিভিন্ন আলামত তাদের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মৃত্যুর ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ের মৃত্যুর পেছনে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের পিতা বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করতে চাই না। একজন শোকাহত পিতা হিসেবে আমার একমাত্র দাবি, আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হোক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও খবর

Sponsered content