আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে: ইরান

  প্রতিনিধি ২৩ জুন ২০২৬ , ১০:৩০:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত তেহরানের হাতেই থাকবে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা তার এই মন্তব্য প্রকাশ করে।

তিনি আরও বলেন, এই জলপথ আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এর ব্যবস্থাপনা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অধীনে থাকবে।

এর আগে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং লেবাননে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী যোগাযোগ কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতিতে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দেশে ফেরার পথে গালিবাফ জানান, আলোচনাটি ইতিবাচক ছিল এবং এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি, তেল খাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়ে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে।

ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনো প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে আছি, সামনে অনেক কাজ বাকি রয়েছে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের পুনরায় কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র কিছু ইরানি তেল খাতের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে।

চুক্তির আওতায় সীমিত পরিসরে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কিছু জব্দকৃত অর্থ মুক্তির বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে।

অন্যদিকে সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার পর সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় বেশি স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিবর্তন ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আরও খবর

Sponsered content