জাতীয়

‘ফ্যাসিস্ট আ.লীগ পচা পানির কচুরিপানার মধ্য দিয়ে উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে’

  প্রতিনিধি ২৩ জুন ২০২৬ , ১১:২৪:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পচা পানির কচুরিপানার মধ্য দিয়ে আবার উকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আজ মঙ্গলবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, যারা (আওয়ামী লীগ) জনগণের জীবন থেকে সুন্দর ভোর কেড়ে নিয়েছিল, যারা সূর্যের আলো কেড়ে নিয়েছিল, যারা স্বাভাবিক জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল, যারা সুস্থ জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল এবং মানুষের বাঁচবার সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছিল—তারা আজকে নানা কায়দায়, নানাভাবে তাদের চুরি করা টাকা, পাচার করা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যবহার করে সমাজের মধ্যে ও দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বহুদিন পর জনগণের শুভেচ্ছায় ও জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। যে নির্বাচন শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল এবং কেড়ে নিয়ে তার ভয়ঙ্কর দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিল। তার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে গঠিত তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে তারা এখন ষড়যন্ত্রী চক্রান্তের বেড়াজাল বুনার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে যখন ১৭ বছর দমাতে পারেননি। বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন, র্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন। জনির মতো অসংখ্য সৈনিক, জাতীয়তাবাদের সৈনিককে আপনারা হত্যা করেছেন। চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দকে আপনারা গুম করেছেন। সেই গুমের রাজত্ব কি আবার ফিরে আসবে? জনগণ কি সেটা সমর্থন দেবে? আবার কি ক্রসফায়ার ফিরে আসবে? জনগণ কি সেটাকে সমর্থন দেবে? নেতাকর্মীরা উচ্চকণ্ঠে বলে – না।’

রিজভী বলেন, আজকে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির সরকার, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেছে? কোনো ক্রসফায়ার হয়েছে? কোনো মিথ্যা মামলায় কেউ বন্দি হয়েছে? শুধুমাত্র দুষ্কৃতিকারী ও সমাজ অপরাধীরা ছাড়া কেউ বন্দি হয়নি।

তিনি বলেন, আজকে দেশ যেভাবে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে—এই অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, গণতন্ত্র, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আবার বন্ধ করার চক্রান্ত তারা করছে তাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়; জনগণ ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ।

নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘তাই শুধু আজকে নয়, প্রতিদিন আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ওরা নানা ধরনের উস্কানিমূলক কাজ করবে। শুধু তারা নয়, তাদের পক্ষের অনেক মহল কিন্তু আজকে এমন কথাবার্তা বলছেন, যেটা দেশবিরোধী, সার্বভৌমত্ববিরোধী।’

রিজভী বলেন, তারা ( আওয়ামী লীগ) এত এত সাহস পেলেন কী করে? একটা মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ জীবন ও দুই লক্ষ মা-বোন নির্যাতিত হলেন, সেই জাতিকে আপনারা (আওয়ামী লীগ) গোলাম বানাবেন? দিল্লির কৃতদাস বানাবেন? তা হবে না, জনগণ তা হতে দেবে না।

জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বপ্রিয় মানুষ—সবাই একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের ইঙ্গিত ও অশুভ কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে হবে বলেও জানান রিজভী।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহিম, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবকদল সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, সাবেক যুবদল নেতা ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, মেহবুব মাসুম শান্ত ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আরও খবর

Sponsered content