সারাদেশ

স্কুলের অফিস কক্ষে শিক্ষক দম্পতির মারামারি, নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা

  প্রতিনিধি ১৪ অক্টোবর ২০২৬ , ৮:০৪:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক ও তার সহকারী শিক্ষক স্ত্রীর মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৬ অক্টোবর উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান তালুকদার ২০০৩ সালের ২৩ এপ্রিল চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করেন। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমা খাতুন ২০০০ সালের ২০ জুন চাকরিতে যোগ দেন এবং ২০১০ সালের ২০ জানুয়ারি বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করেন।

আফজালুর রহমান ও আসমা খাতুন ২০০৪ সালে নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক আসমা খাতুন তার স্বামী প্রধান শিক্ষককে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকও মারমুখী হয়ে ওঠেন। তাদের থামানোর চেষ্টা করেন এক শিক্ষক। অন্য একজনকে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। হট্টগোল শুনে বাইরে থেকে কয়েকজনও সেখানে আসেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।

ঘটনার পর ভিডিওটি প্রকাশ্যে না এলেও গত ১২ অক্টোবর এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। এরপর ভিডিওটি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।

আসমা খাতুন গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। তবে শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী অন্য নারীদের সঙ্গে খুনসুটি করেন। তিনি একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে থাকেন। অন্যদিকে, তার স্বামী বাড়িতে থাকেন এবং সব সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন।

প্রধান শিক্ষক আফজালুর রহমান বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও একই বিরোধের জেরে মারামারি হয়। তিনি নিজেই সহকর্মী শিক্ষকদের ভিডিও ধারণ করতে বলেন। তাদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দূরত্ব রয়েছে। তবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ভিডিওটি পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পারিবারিক হলেও বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে সরকারি কোনো কর্মচারী যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটান, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও খবর

Sponsered content