মেহেদী হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:২৮:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমতলীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি কিংবা চরেমোনাই—কোনো রাজনৈতিক বিভেদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, ১২ তারিখ নির্বাচনের পর নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং সবাই মিলেমিশে সমাজে বসবাস করবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনার মানুষ যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে, তাহলে বরগুনার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দিল্লি বা কলকাতার আওয়ামী লীগের চেয়েও ভালো থাকবেন।”
তিনি বলেন, ২০০১ সালের উপনির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর উদ্যোগে অবহেলিত আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। সে সময় আমতলী–তালতলী–ফকিরহাট সড়ক, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সুবিধা বাস্তবায়ন করা হয়। সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ মো. মতিয়ার রহমান তালুকদারের নেতৃত্বেই তখন এলাকাবাসী উন্নয়নের সুফল পেয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে গত ১৭ বছরে আমতলী ও তালতলীতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ধর্ম নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “ভোট দিয়ে কেউ জান্নাতে যেতে পারে না। জান্নাতে যেতে হলে রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথে কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে। কিছু দল ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে।”
বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত দুই দশকে আমতলী–তালতলীতে মৌলিক সেবা নিশ্চিত হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ নতুন করে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
আমতলী উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন ফকির-এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা-র সঞ্চালনায় জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুল হক মাস্টার, আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম মামুন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল ইসলাম, আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মকবুল হোসেন খান, মো. কামরুজ্জামান হীরু, আলহাজ তারিকুল ইসলাম টারজান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. কবির উদ্দিন ফকির, সদস্য সচিব মো. জালাল আহমেদ খানসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ধানের শীষের মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।




















