সারাদেশ

আগৈলঝাড়ায় পূর্ববিরোধের জেরে যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

  আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: ৩ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪৫:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাসাইল গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে জহিরুল শিকদার (৩৯) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল শিকদার উপজেলার ছোট বাসাইল গ্রামের আব্দুর রশিদ শিকদারের ছেলে।

ঘটনার পর আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের অভিযানে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট বাসাইল গ্রামের জহিরুল শিকদারের সঙ্গে একই গ্রামের সিন্টু শিকদার, সান্ত শিকদার, জুয়েল শিকদার ও জাহাঙ্গীর শিকদারসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বুধবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আপাতভাবে মীমাংসা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার গভীর রাতে জহিরুল শিকদারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি সড়কে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে সিন্টু শিকদারকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের বড় ভাই এনামুল শিকদার বলেন, “সকালের ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু রাতে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান দৈনিক মতপ্রকাশকে জানান, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সান্ত শিকদার (২২) ও জাহাঙ্গীর শিকদার (৫৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content