নাহিম মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার(সিলেট) ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১:৩৮:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাফিজ মাসুম আহমদ নামে এক ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এশার নামাজের পর কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দেন মসজিদের মুতাওয়াল্লি ফয়জুর রহমান।
হাফিজ মাসুম আহমদের দাবি, টুকের বাজারে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার কারণে তাকে আগাম নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ পুরো উপজেলায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তৈমুর নগর ভাঙ্গারপাড় ক্রাশারমিল জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি ফয়জুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি পঞ্চায়েতের বিষয়, আমি একা সিদ্ধান্ত নিইনি।” কোনো নোটিশ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে কেন তাকে বিদায় দেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি সরাসরি কিছু না বলে বলেন, এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার জেরে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
হাফিজ মাসুম আহমদ ২০০৬ সাল থেকে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইমামতির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত রমজানে তারাবির নামাজও পড়াতেন। বরাবরের মতো এ বছরও তারাবির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে রমজানের মাত্র চার দিন আগে কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী শেষ জনসভায় বক্তব্য দেন হাফিজ মাসুম আহমদ। খেলাফত মজলিসের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে তিনি ওই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই বক্তব্যের একটি অংশকে কেন্দ্র করেই তাকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
হাফিজ মাসুম আহমদ বলেন, “প্রায় বিশ বছর ধরে আমি এই মসজিদে ইমামতি করছি। কখনো কারও সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়নি। নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর আমাকে জানানো হয়, আগামীকাল থেকে আর মসজিদে আসতে হবে না।”
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।




















