অপরাধ

ঐতিহাসিক খরায় বিপর্যস্ত ইরানের রাজধানী:তেহরানে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে পানির উৎস

  প্রতিনিধি ৩ নভেম্বর ২০২৫ , ১:৪৬:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের রাজধানী তেহরান মারাত্মক পানি সংকটে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শহরটির প্রধান পানীয় জলের উৎস আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।

তেহরানকে পানি সরবরাহকারী পাঁচটি ড্যামের মধ্যে আমির কবির ড্যামে বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি অবশিষ্ট রয়েছে, যা এর ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ। রাজধানীর পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বেহজাদ পারসা জানিয়েছেন, এই পরিমাণ পানি দিয়ে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সরবরাহ চালানো সম্ভব হবে।

গত এক বছরে এই ড্যামে পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এক বছর আগে যেখানে পানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৪০ লাখে। এর প্রধান কারণ হলো তেহরান অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বৃষ্টির অভাব। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি গত একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক সময়।

১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের এই বিশাল নগরী বরফাচ্ছন্ন আলবোরজ পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত। এখানকার নদীগুলো থেকেই শহরের ড্যামগুলোতে পানি সরবরাহ করা হয়।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তেহরানের জনগণ প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি ব্যবহার করে। পানি সাশ্রয়ের জন্য সম্প্রতি কিছু এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালেও একইভাবে ঘন ঘন পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

গত জুলাই-আগস্টে চরম তাপপ্রবাহের সময় তেহরানের তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। তখন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছিলেন, “ইরানের পানি সংকট বর্তমান আলোচনার চেয়েও ভয়াবহ।”

দেশজুড়ে পানি সংকটের জন্য ভুল পানি ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেশী ইরাকও একই সংকটে পড়েছে; ১৯৯৩ সালের পর দেশটি সবচেয়ে শুষ্ক সময় পার করছে। টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পানি ২৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ ইরাকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content