সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল নারীদের ক্ষমতায়নই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য

  প্রতিনিধি ১০ মার্চ ২০২৬ , ১:০৯:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

নারীদের ক্ষমতায়ন করাই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাঁহ আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলার মধ্যে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন মির্জা ফখরুল।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাড়ির প্রধান মহিলারাই এই ফ্যামিলি কার্ডটা পাবেন। তিনি এই কার্ডটা কি কাজে ব্যবহার করবেন সেটা পরের ব্যাপার, কিন্তু উনার হাতে একটা কার্ড থাকবে। এটা হচ্ছে সোজা হিসাব যেটা আমি বললাম- মহিলাদের ক্ষমতায়ন করা, তার হাতে একটা অস্ত্র তুলে দেওয়া, যে আমার শক্তি আছে, আমার ফ্যামিলি কার্ড আছে।’

দুর্নীতিবাজদের কড়া হুশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে কাজ করতে আসছি, কাজ করব। যদি দেখা যায়, কেউ কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছে, তার কোনো ক্ষমা নাই। আমরা কোনো ক্ষমা করব না, এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা নতুন করে শুরু করি, আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে, পেছনে ফিরে আর না তাকাই। সামনের দিকে তাকিয়ে, সামনের দিনগুলো কি করে সুন্দর করা যায়, কি করে আমরা ভালো করে বাস করতে পারি, কি করে বেঁচে থাকতে পারি তাহলে আমরা সুন্দর একটা দেশ গড়তে পারব।’

নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবতায়ন করা হবে জানিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্রুত কাজ শুরু করেছি, আমি আসতে আসতে হিসাব করছিলাম কয়দিন হলো আমাদের সরকারে আসার, আমি দেখলাম ২২ দিন। এই ২২ দিনের মধ্যেই আমরা কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড আপনাদের সামনে নিয়ে আসছি। সেই সাথে আমরা ১০ হাজার টাকা সুদসহ কৃষিঋণ মাফ করে দিয়েছি কৃষকদের। কেউ না পেলে পাবেন, এটা ঘোষণা হয়ে গেছে এবং গেজেটও হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাল খনন শুরু হয়ে গেছে, আগামী ১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই, উনার আব্বা জিয়াউর রহমান সাহেবের মতো কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে উনি (তারেক রহমান) খাল কাটতে শুরু করবেন। সারা বাংলাদেশে অসংখ্য খাল খনন শুরু হবে। এই খাল কেটে বর্ষার সময় যে পানিটা হয় সেই পানিটাকে আমরা জমা রাখব। আর খরার দিনে যখন আমার পানির অভাব তখন এই পানিকে আমরা ব্যবহার করব।’

বিগত ১৫ বছর দেশে কোনো আইনকানুন ছিল না- উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৫ বছর যা খুশি তাই করে গেছে, টাকা ছাড়া কেউ কোনো কার্ডও পায়নি। আমরা যে ফ্যামিলি কার্ড দিলাম এর জন্য কি কোনো টাকাপয়সা দিতে হইছে? কাউকে কোনো টাকা দিতে হয়নি, টাকা দিতে হবেও না। আবারও বলছি, প্রত্যেকটি মা এই ফ্যামিলি কার্ডটি পাবেন। সুতরাং অস্থির হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের এটাই মূল লক্ষ্য।যে প্রত্যেক মাকে ক্ষমতায়িত করতে চায়, শক্তি বাড়াতে চায়। এমনিতেই আমাদের মায়েরা সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করে, একটা পরিবারের জন্য তার সংগ্রাম সবচেয়ে বেশি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে, আপনাদের সবার পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আমাদের রহিমানপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডকে বেছে নিয়েছেন পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে।’

অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম, রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হান্নু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content