প্রতিনিধি ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ৩:০৪:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বিক্ষোভের নেপথ্যে এবার ইলন মাস্কের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিং।
এই আন্দোলনকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের ষড়যন্ত্র’ বলেও দাবি করেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তবে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি। ভারতীয় বার্তাসংস্থা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
শুক্রবার উত্তর প্রদেশের উন্নাওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব অভিযোগ করেন ব্রিজভূষণ। তার দাবি, আন্দোলনটির উদ্দেশ্য সুপ্রিম কোর্টকে ভয় দেখানো এবং বিদেশি স্বার্থে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করা।
ব্রিজভূষণ শরণ সিং বলেন, ‘এই পুরো আন্দোলন ইলন মাস্কের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। এটি আমাদের দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। আমাদের দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের তুলনা করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এখানে সুপ্রিম কোর্টকে ভয় দেখানোর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশিরা আমাদের দেশে ব্যবসা করতে চায়, কিন্তু নিজেদের শর্তে। তারাই এই আন্দোলনে অর্থ ও সমর্থন জোগাচ্ছে।’
ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে কথিত বিলম্ব নিয়ে সম্প্রতি ভারত সরকারের সমালোচনার মুখে পড়েন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিজেপি নেতার এই মন্তব্য এল।
এদিকে সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বিক্ষোভ হওয়ার কথা। নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনটির এ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের কারণে কনট প্লেস ও আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পুলিশ জানায়, ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে এসব এলাকায় যান চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াতের পরিকল্পনা আগে থেকে করে নেওয়া, হাতে অতিরিক্ত সময় রাখা এবং গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।
সিজেপির এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে। পরে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আন্দোলনকারীদের আটক এবং দুই সংগঠককে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সমাবেশের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কে রূপ নেয়।
তবে আন্দোলনের সঙ্গে ইলন মাস্কের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্রিজভূষণের অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।





















