🔹 মোঃ আজহারুল ইসলাম , প্রধান সম্পাদক ,দৈনিক মতপ্রকাশ। ২৪ অক্টোবর ২০২৪ , ১১:০৯:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমন এক নাম, যিনি নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে জাতিকে আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে পরিচিত করে তুলেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মহান নেতা, কিন্তু প্রচলিত অর্থে রাজনীতিবিদ ছিলেন না। বরং তাঁর দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও উন্নয়নদর্শন তাঁকে জনগণের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।
দেশপ্রেম এমন একটি অনুভূতি যা রাতারাতি জন্ম নেয় না—এটি সময় ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে পরিপক্ব হয়। জিয়াউর রহমানের জীবনে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে কর্মে, সাহসে ও সিদ্ধান্তে। শত্রুর হাত থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প থেকেই তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময়ই তিনি শপথ করেছিলেন—প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করবেন, কিন্তু দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না।
আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারে জন্ম নিয়েও জীবিকার প্রয়োজনে নয়, বরং শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর চাচা ক্যাপ্টেন (ড.) মোনতাজুর রহমান ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুদ্ধফেরত একজন সেনা কর্মকর্তা—যার জীবনধারা তরুণ জিয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে কমিশনপ্রাপ্ত হন জিয়াউর রহমান। তিনি দ্রুতই মেধা ও কর্মদক্ষতায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাঁকে ‘হিলাল-ই-জুরাত’ খেতাবে ভূষিত করা হয়—যা ছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার।
১৯৭১ সালের ভয়াল ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বর হামলা চালায়, তখনই জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে যান। পরে মুক্তিযুদ্ধে তিনি গঠন করেন বিখ্যাত ‘Z Force’, যা অসাধারণ বীরত্ব ও সাফল্যের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গতি ত্বরান্বিত করে।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন তিনি। তাঁর সময়েই শুরু হয় আরব দেশগুলোতে মানবসম্পদ রপ্তানি—যা বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এই প্রবাসী আয়ের ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ শক্ত ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে।
১৯৭৬ সালে পশ্চিমা সাংবাদিক কেভিন র্যাফাটি বাংলাদেশ সফরে এসে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন—“বাংলাদেশ মাত্র এক বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিক থেকে ‘এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন’ হয়ে উঠেছে।” এ সময় জিয়াউর রহমান বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে আত্মনির্ভরতার নীতি গ্রহণ করেন এবং জনগণকে ‘কাজ করো, দেশ গড়ো’ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ করেন।
রাজনীতির জগতে তিনি নতুন ধারার সূচনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করে। জনগণের প্রত্যাশা ও জাতীয় চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি দলটিকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
জিয়াউর রহমানের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে প্রকাশ পেয়েছে দেশপ্রেম, সততা ও কর্মদক্ষতা। তাঁর জীবনের মূল দর্শন ছিল—“দেশকে ভালোবাসা মানেই দেশকে কাজ দিয়ে ভালোবাসা।”
আজকের প্রজন্ম যদি তাঁর আদর্শ ও আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেয়, তবে বাংলাদেশ আরও আত্মনির্ভর, মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা জাতির প্রতিটি নাগরিকের।
🔹 মোঃ আজহারুল ইসলাম ,
প্রধান সম্পাদক ,দৈনিক মতপ্রকাশ।





















