সারাদেশ

রমজান সামনে রেখে রংপুরে লেবু–খেজুর ও মুরগির দাম ঊর্ধ্বমুখী

  মো: সাকিব চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:৫৮:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

 

রোজার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে রংপুরের বাজারগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ লেবু ও খেজুরের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগিসহ কিছু সবজির দাম। তবে পেঁয়াজ, ডিমসহ মাছ ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রংপুর সিটি বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকায় লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পাশাপাশি বেড়েছে খেজুরের দামও।

সিটি বাজারে বাজার করতে আসা রহমান মিয়া বলেন, “রোজা শুরুই হয়নি, এর মধ্যেই লেবুর দাম বেড়ে গেছে। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে অন্যান্য পণ্যের দামসহ সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।”

খুচরা বিক্রেতারা জানান, শবে বরাতের দু’দিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়ে। সিটি বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কিছুটা কমে যায়, ফলে দাম বাড়ে।

এরই সঙ্গে খেজুরের দামও বেড়েছে। বর্তমানে জাহিদী খেজুর কেজি ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরই খেজুর ৪৮০–৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০–৭০০ টাকা, সুক্কারি ৭০০–৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০–১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০–১৮০ টাকা। পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ২৮০–৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০–৩২০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৭০–২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০–৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫১০–৫৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুলাটোল আমতলা বাজার-এর মুরগি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, “কয়েক দিন ধরে মুরগির আমদানি কমে গেছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।”

সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। প্রতিকেজি বেগুন ৫০–৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০–৬০ টাকা, করলা ১০০–১২০ টাকা, মূলা ৩০–৪০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি (সাইজভেদে) প্রতিপিস ৩০–৪০ টাকা, পেঁপে ৩০–৪০ টাকা, টমেটো ৪০–৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১০০–১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসায় প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক ক্রেতা বলেন, “পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি সহনীয়। এমন থাকলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।”

চালের বাজারে গত সপ্তাহের মতোই দাম স্থিতিশীল রয়েছে। স্বর্ণা (মোটা) ৪৮–৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫–৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৬৫–৭০ টাকা, বিআর-২৯ ৬০–৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৭০–৭৫ টাকা, মিনিকেট ও নাজিরশাইল ৮৫–৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫–২০০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মসুর ডাল (চিকন) ১৫০–১৬০ টাকা, মাঝারি ৯০–১০০ টাকা, মুগ ডাল ১৫০–১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০–১২০ টাকা, খোলা চিনি ১০৫–১১০ টাকা, ছোলাবুট ৯০–১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা, খোলা আটা ৪৫–৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫–৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস অপরিবর্তিত ৭২০–৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে পোলট্রি মুরগির ডিমের হালি আগের মতোই ৩৪–৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content