নেত্রকোনা প্রতিনিধি ২ এপ্রিল ২০২৬ , ৫:৫৯:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
একসময় শীত এলেই নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল ভরে উঠত অতিথি পাখির কিচিরমিচিরে। কিন্তু এখন আর কোনো মৌসুমেই দেখা মিলছে না এসব পাখির। এতে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।
জেলার মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, মদন ও আটপাড়া উপজেলার হাওর-বিলগুলো একসময় ছিল অতিথি পাখির অভয়ারণ্য। শীতের শুরুতে সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে ভিড় জমাতো এসব জলাভূমিতে। বালি হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, চখাচখি, পানকৌড়ি, ডাহুক, সরালী ও কাইম পাখিসহ অর্ধশতাধিক প্রজাতির পাখি দেখা যেত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছর ধরে এসব পাখির আগমন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, খাদ্য সংকট, নির্বিচারে পাখি নিধন এবং হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল ও পাখিপ্রেমীরা।
মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপোতা হাওরপাড়ের তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “আগে হাওরগুলো সারাবছরই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য নেই। জলাশয় ভরাট হয়ে অনেক জায়গা ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে, মানুষের উপস্থিতিও বেড়েছে—ফলে পাখিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নেই।”
মদন উপজেলার ধোবাউলা গ্রামের বাসিন্দা মোহন ভূঁইয়া বলেন, “তলার হাওরসহ আশপাশের জলাশয়ে প্রচুর অতিথি পাখি দেখা যেত। এখন আর আসে না। এমনকি দেশীয় পাখিও কমে যাচ্ছে। অসাধু শিকারিরা নির্বিচারে পাখি শিকার করছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।”
একই উপজেলার বাসিন্দা পাখিপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, “লক্ষীপাশা, পাঙ্গাশিয়া, সাতবিলা ও কুটিচাপরা হাওর একসময় পাখির অভয়ারণ্য ছিল। এখন আর পতিত জমি নেই, সবই চাষের আওতায় চলে গেছে। ফলে পাখিরা আর আসে না।”
স্থানীয়রা জানান, অতীতে অসাধু ব্যবসায়ী ও শিকারিরা ফাঁদ পেতে পাখি ধরত এবং কোথাও কোথাও বসত অবৈধ পাখির হাট। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সচেতনতার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, “পাখি শিকার বা বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করলে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “অতিথি পাখিসহ যেকোনো বন্যপ্রাণী শিকার করা আইনত দণ্ডনীয়। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবার সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন।”




















