প্রতিনিধি ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৪৪:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন বিদেশি নেতার মন্তব্যকে ‘বোকামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তার অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছেন এসব নেতা। এদিকে আগামী শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করছে ফরাসি সরকার। বার্তাসংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
কাতার সফরে গিয়ে দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রন বলেন, গত শনিবারের দাঙ্গার পর তথ্য নিয়ে কারসাজি করে বিদেশি নেতাসহ অনেকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও বোকামিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন।
তিনি সরাসরি কারও নাম না নিলেও ট্রাম্পের কথা বলা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘অন্যদের মধ্যে তিনিও আছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ট্রাম্প ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টদের দায়ী করেছেন।
ম্যাক্রন বলেন, অঞ্চলটিতে কিংবা আটলান্টিকের ওপারে নির্বাচনী প্রচারে থাকা কিছু নেতা এমন সব বয়ান ছড়াচ্ছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী স্পষ্টতই প্রচার করতে চায়। তারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ফ্রান্সকে ব্যবহার করছেন। অথচ ফ্রান্সের নিজেদেরই মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে।
অভিবাসীদের নিয়ে ‘মিথ্যা প্রচার’
ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি ভুয়া ছবিও ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ম্যাক্রন। তার ভাষ্য, এসব ছবিতে এমন দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, যা বাস্তবে ফ্রান্সে ঘটেনি।
তিনি বলেন, ফ্রান্স অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের ঢলে ‘আক্রান্ত’ হয়েছে এমন দাবিও করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ফ্রান্সে ‘চরমপন্থী ইসলামের আগ্রাসন’ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকেরা ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রধান কারণ হিসেবে অভিবাসীদের দায়ী করার দাবির সঙ্গে একমত নন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এ সংকট দেখা দিয়েছে। ওই নির্বাচনে ম্যাক্রন উত্তরসূরি বেছে নেওয়া হবে। গত শনিবারের ব্যাপক দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সহিংসতা ও ব্যাপক লুটপাটে রূপ নেয়। বিশেষ করে প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ ও লিমোজ শহরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। লিমোজে সিটি হলের একটি অংশে আগুন দেওয়া হয়, এতে ভবনটির আংশিক ক্ষতি হয়।
প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ
নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ, লুভর জাদুঘর ও শঁজেলিজে এলাকা। এ ছাড়া বাস্তিল ও রিপাবলিক চত্বর এবং সপ্তাহান্তে লুটপাটের শিকার হওয়া শাতলে-লেজ আল শপিং এলাকাতেও সমাবেশ করা যাবে না।
গত সপ্তাহান্তের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছেন ম্যাক্রন। শনিবার প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে মিছিলের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ নামে পরিচিত তৃণমূল পর্যায়ের বিক্ষোভ আন্দোলন। ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলন করেছিল গোষ্ঠীটি।
একই দিনে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সফররত ম্যাক্রন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী শনিবার শহরের কেন্দ্রগুলোতে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের তা করতে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো দ্বিধা থাকা চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।





















