নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৩৬:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর বনানীর বেলতলা আদর্শ নগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে চক্রটি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অনুসন্ধানে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কামরুজ্জামান রুবেল ওরফে ‘নাডা রুবেল’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি গড়ে উঠেছে। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী নিয়মিতভাবে এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বেচাকেনা পরিচালনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলতলা এলাকায় ইয়াবা ও হেরোইনের অবাধ লেনদেন হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটির সদস্যরা নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্ট ব্যবহার করে মাদক বিক্রি করছে এবং এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেউ এই কার্যক্রমের প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি জাহিদ খান নামে এক পেশাদার গাড়িচালক অভিযোগ করেন, তাকে প্রকাশ্যে ভয় দেখিয়ে নগদ ১৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
তার ভাষ্য,
“দিনের বেলায় অস্ত্র দেখিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা ও ফোন নিয়ে গেছে। আমি অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখছি না।”
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
বনানী থানা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম রনি বলেন,“তিনি আমাদের সংগঠনের কেউ নন। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার দায় আমরা নেব না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক অভিযোগ ও মামলার পরও দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধচক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কড়াইল বস্তি ও আশপাশের এলাকায় তাদের প্রভাব বিস্তারের কথাও উঠে এসেছে।
তবে বনানী থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।





















