প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৪৭:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলা ভাষার গল্প এবার আরও বড় পরিসরে পৌঁছাতে যাচ্ছে। জনপ্রিয় অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স ও হইচই দুই বছরের একটি অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে। এর আওতায় হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া প্রতিটি নতুন বাংলা সিরিজ হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় দেখানো হবে নেটফ্লিক্সে।
বৃহস্পতিবার ভারতের মুম্বাইয়ে এ চুক্তির ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠান দুটি। বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, হইচইয়ে কোনো বাংলা সিরিজ মুক্তির দিনই তার হিন্দি, তামিল ও তেলুগু সংস্করণ নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে। এসব ভাষার সংস্করণ নেটফ্লিক্সেই একচেটিয়াভাবে প্রচারিত হবে।
এ উদ্যোগের প্রথম সিরিজ ‘দ্য কার্সড টেম্পল অব কৌরিবুড়ি’। লোককথানির্ভর ভৌতিক ধারার এ সিরিজটি আগামী ৬ নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা। এতে অভিনয় করেছেন জিতু কমল, সোলাঙ্কি রায় ও পাওলি দাম। আগামী কয়েক মাসে আরও সিরিজ এ উদ্যোগের আওতায় আসবে।
নেটফ্লিক্সে আসছে হইচইয়ের ১৪ সিরিজ
নতুন সিরিজের পাশাপাশি হইচইয়ের আগে মুক্তি পাওয়া ১৪টি সিরিজও নেটফ্লিক্সে যুক্ত হবে। এগুলো হলো ‘ম্যাডাম ইন্সপেক্টর’, ‘সম্পূর্ণা’, ‘লজ্জা’, ‘একেন স্যারজি’, ‘আঞ্জান সায়ে’, ‘দ্য কার্স অব পর্ণশবরী’, ‘ব্লাডলাইনস’, ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব দাদি অ্যান্ড জগ্গা’, ‘রাত আভি বাকি হ্যায়’, ‘অচিন্তা: ট্রায়াল বাই ল’, ‘শাদি কা সিয়াপ্পা (বোহেমিয়ান ঘোড়া)’, ‘কুইন্স’, ‘পরিণীতা: আ লাভ স্টোরি’ ও ‘মহানগর’।
তালিকায় অপরাধ ও গোয়েন্দা কাহিনি, লোককথানির্ভর ভৌতিক গল্প, সামাজিক ও আদালতকেন্দ্রিক নাটক এবং প্রেমের গল্প- বিভিন্ন ধারার সিরিজ রয়েছে।
যৌথভাবে তৈরি হবে নতুন সিরিজ
শুধু বিদ্যমান সিরিজ প্রচার নয়, নতুন মৌলিক সিরিজ তৈরিতেও একসঙ্গে কাজ করবে নেটফ্লিক্স ও হইচই। হইচইয়ের নির্বাচিত কিছু গল্প নতুনভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটির। এসব সিরিজ প্রযোজনা করবে হইচই স্টুডিওস।
প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোজনেই যুক্ত হবেন নতুন সৃজনশীল ব্যক্তিরা। তবে নতুন সিরিজগুলোর নাম, অভিনয়শিল্পী কিংবা মুক্তির সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ নিয়ে উচ্ছ্বাস অমিতাভ রেজার
নেটফ্লিক্স ও হইচইয়ের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের বিনোদনজগতেও সাড়া ফেলেছে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’র পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী।
তিনি লিখেছেন, ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ কেবল একজন ট্রাকচালকের আট স্ত্রীর গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের মাটি, মানুষ, লোকসংস্কৃতি, সম্পর্কের জটিলতা এবং জীবনের নানা বিচিত্র রসের গল্প।
অমিতাভ রেজা লেখেন, এই গল্পে হাসি, ভালোবাসা ও প্রতারণা রয়েছে। টিকে থাকার জন্য মানুষ যে বিচিত্র কৌশল অবলম্বন করে, সেসবও উঠে এসেছে এতে।
তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশের সড়কজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই গল্প এবার আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। হইচই থেকে নেটফ্লিক্স-সীমানা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’। বাংলাদেশের গল্প, মানুষ ও নিজস্ব রসবোধ এবার বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কনটেন্ট বাড়াচ্ছে নেটফ্লিক্স
নেটফ্লিক্সের মৌলিক কনটেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রচারমাধ্যমের তৈরি অনুষ্ঠান যুক্ত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এই চুক্তি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বজুড়ে তাদের দর্শকসংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। ফলে বিভিন্ন স্টুডিও, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ও নির্মাতাদের জন্য নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে।
হইচইয়ের সঙ্গে চুক্তির আগে ফ্রান্সের সম্প্রচারমাধ্যম টিএফ১-এর সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানসূচি প্রচারের চুক্তি করেছে নেটফ্লিক্স। চলতি মাসের শুরুতে ব্রাজিলের সম্প্রচারমাধ্যম গ্লোবোর সঙ্গেও চুক্তি করে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশের বাজারে নেটফ্লিক্সের কাছে কনটেন্ট বিক্রিতে অনাগ্রহী ছিল গ্লোবো, যদিও লাতিন আমেরিকার অন্যান্য বাজার ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাদের কিছু অনুষ্ঠান নেটফ্লিক্সে প্রচারিত হয়েছে।
২০১৭ সালে এসভিএফের নতুন মিডিয়া উদ্যোগের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে হইচই। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও এসভিএফের নির্বাহী পরিচালক বিষ্ণু মোহতার পরিচালনায় প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে দুই হাজার ঘণ্টার বেশি অনুষ্ঠান প্রচার করছে। এতে রয়েছে ১০০টির বেশি মৌলিক সিরিজ, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যধর্মী সিরিজ।
হইচইয়ের দাবি, বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটির বেশি বাঙালির কাছে পৌঁছেছে তাদের প্ল্যাটফর্ম। ২০২৩ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজনায়ও প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয় তাদের চলচ্চিত্র প্রযোজনা বিভাগ হইচই স্টুডিওস।
নেটফ্লিক্সের সঙ্গে নতুন এই অংশীদারত্বের ফলে বাংলা ভাষার গল্প আরও বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতাদের জন্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের কাজ তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।















