খেলাধুলা

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচে ফিফার বিশেষ নিয়ম

  প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৯:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ততই বাড়ছে রেফারিং নিয়ে আলোচনা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও মিশরের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর আবারও সামনে এসেছে ফিফার রেফারি নিয়োগ নীতি।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সাধারণত প্রতিটি ম্যাচে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দেশের রেফারি নিয়োগ দেয়। তবে শুধু নিরপেক্ষতাই নয়, ম্যাচ অফিসিয়াল নির্বাচন করতে গিয়ে সংস্থাটি অনেক সময় রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় রাখে। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে কিছু দেশের রেফারিদের নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

চলতি বিশ্বকাপে এমনই একটি বিশেষ সমীকরণ তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে ঘিরে।

যদি ইংল্যান্ড ফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিকে ইংল্যান্ডের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। একইভাবে, আর্জেন্টিনা যদি সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে এবং সম্ভাব্যভাবে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ রেফারি অ্যান্থনি টেইলর ও মাইকেল অলিভারকে আর আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে সাতটি ম্যাচ পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার। তবে আর্জেন্টিনা যদি ফাইনালে জায়গা করে নেয়, তাহলে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালে তার বাঁশি বাজানোর সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে।

এই নিয়মের পেছনে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস।

১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় আর্জেন্টিনা। এর পরই শুরু হয় আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী ফকল্যান্ড যুদ্ধ। জুন মাসে আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হলেও এতে প্রাণ হারান ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য। এছাড়া নিহত হন তিনজন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসীও।

চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফকল্যান্ড ইস্যুতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেই ঐতিহাসিক বৈরিতার কোনো প্রভাব যাতে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করে, সে কারণেই আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নেয় ফিফা।

ফলে মাঠের লড়াই যতই রোমাঞ্চকর হোক, বিশ্বকাপের শেষ দিকে রেফারি নিয়োগেও যে ইতিহাস, কূটনীতি ও ভূরাজনীতির প্রভাব রয়ে যায়, চলতি আসর সেটিই আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে।

আরও খবর

Sponsered content