সারাদেশ

মুকসুদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

  শেখ শোভন আহমেদ , গোপালগঞ্জ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:১২:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ

 

“শিক্ষক হলো জ্ঞানের স্রষ্টা”—এই প্রচলিত কথার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে। মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজ বিদ্যালয়ের গাছ অবৈধভাবে বিক্রি, বিদ্যালয় সীমানার ভেতরে জুয়ার আসর পরিচালনা ও এতে অংশগ্রহণ, অবৈধভাবে কর্মচারী নিয়োগ, অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

উল্লেখ্য, পরিতোষ সরকার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এবং মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে তিনি ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েও তিনি একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, তার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গোপালগঞ্জ–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

কাশিয়ানী থানার পারুলিয়া ইউনিয়নের তিতাগ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রনি শেখ অভিযোগ করে বলেন, “আমি ও আমার কয়েকজন সহপাঠী নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করি। পরে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ২০ হাজার টাকা দিলে আমাকে তার বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে দেবেন।”

বহুগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুমন বিশ্বাস বলেন, “পরিতোষ সরকার একজন শিক্ষক নামের কলঙ্ক। চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তিনি টাকার বিনিময়ে নিজের ইচ্ছামতো কর্মচারী নিয়োগ দিতেন। বিদ্যালয়ের সীমানার মাঠে বসেই জুয়া খেলতেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এমপি ফারুক খানের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি বহু দুর্নীতি ও লুটপাট করেছেন। আমরা তার বিচার চাই এবং এই স্কুলকে তার কবল থেকে মুক্ত করতে চাই।”

এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবীর বলেন, “আমি অল্প কিছুদিন হলো এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব। গণমাধ্যমকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে কাজ করুন, এটার সমাধান হোক—এটাই চাওয়া।”

এ বিষয়ে পরিতোষ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অভিভাবক ও সচেতন মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগগুলোর সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content