প্রতিনিধি ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ২:১৭:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনে মাদক গ্রহণের পর অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন আবুধাবির রাজপরিবারের সদস্য মাহরা আল নাহিয়ান। এ সময় তার তিন বছর বয়সী শিশুসন্তানটি খালি পায়ে ব্যস্ত সড়কের পাশে ঘোরাফেরা করছিল।
এ ঘটনায় শিশুর প্রতি অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করায় তাকে দুই বছরের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
মঙ্গলবার সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে শিশুর প্রতি অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন ৩২ বছর বয়সী মাহরা। তিনি বিয়ের সূত্রে আবুধাবির রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত। তার মাসিক ভাতা ৮ হাজার পাউন্ড বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুন পশ্চিম লন্ডনে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান পথচারীরা। তার কাছাকাছি এক ব্যক্তিকেও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় শিশুটি জুতা ছাড়া একটি স্কুটার নিয়ে ব্যস্ত সড়কের পাশে ঘোরাফেরা করছিল। পরে পথচারীরা শিশুটির দেখভাল করেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোকেন গ্রহণের পর প্রায় আধা ঘণ্টা অচেতন ছিলেন মাহরা। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বলেন, ‘এটা কোনো কসাইখানা নয়; আপনারা এত চিন্তা করছেন কেন? এত উদ্বিগ্ন হচ্ছেন কেন?’
পরে তল্লাশিতে তার কাছে মাদক গ্রহণের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর আসক্তির চিকিৎসার জন্য তাকে সারে কাউন্টির ওকিংয়ে প্রায়োরি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিও পাহলাভানপুর বলেন, পথচারীরা শিশুটিকে খালি পায়ে রাস্তায় অযত্নে পড়ে থাকতে দেখেন। শিশুটি চলন্ত যানবাহনের খুব কাছাকাছি থাকায় তারা হস্তক্ষেপ করেন।
আদালতে মাহরার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি বলেন, ওই দিন মাহরা গুরুতর ভুল করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, ঘটনার দিন মাহরা মাদক গ্রহণ করেননি; বরং এর আগের কয়েক দিনে মাদক গ্রহণের কারণে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলেন।
আইনজীবী আরও বলেন, নিজের কাজের জন্য মাহরা গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি জানান, তিন মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচির সব ধাপ সম্পন্ন করতে চান মাহরা। চলতি মাসের শেষে ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। এরপর গিল্ডফোর্ড এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থেকে দিনের বেলায় চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।





















