প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ১০:১৭:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন করে কোনো বৈঠকও নির্ধারিত নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তেহরানকে নতুন করে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না, এমনকি এর কোনো সময়সূচিও নেই। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ ‘পুরোদমে কার্যকর’ রয়েছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা এবং কার্যক্রম চালু রয়েছে। সেখানে থাকা সব নৌমাইন অপসারণ করা হয়েছে অথবা বিস্ফোরিত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে সোমবার ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুবই ইতিবাচক ও সক্রিয় আলোচনা’ চলছে। তবে কুশনারের বক্তব্যের বিপরীতে ট্রাম্প দাবি করলেন, বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
তবে মার্কিন সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প আপাতত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরান চুক্তিতে রাজি হওয়ার মতো অবস্থানে না আসা পর্যন্ত তার দলকে আলোচনায় না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে যে মানচিত্র প্রকাশ করেন, তাতে হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়। এর এক দিন আগেও ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অচলাবস্থার মধ্যে কাতার জানিয়েছে, ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রণালিটি নিয়ে একটি সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পুনরায় শুরু করা সহজ হবে।
কাতার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চুক্তির জন্য তাড়াহুড়া করতে চান না এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন।
এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার মধ্যেই ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় যুদ্ধ ও জ্বালানির বাড়তি দাম ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপও তৈরি করছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প সোমবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দেন। ফলে যুদ্ধের অবসানের পরিবর্তে হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।















