বিনোদন

সাত বছরের প্রেম ভাঙার অভিযোগ, সাবিলা নূর ও চিত্রগ্রাহক মামুনকে ঘিরে আলোচনা

  বিনোদন প্রতিবেদক: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১:১১:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা-গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুন। সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন মামুনের কথিত প্রেমিকা তিশা। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিয়ের কয়েক দিন আগে সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মামুন। এর পেছনে সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে দায়ী করছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের ও আবদুল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিশার দাবি, সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পর তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে আগামী ১৫ মে বিয়ের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগে মামুন তাঁকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিশা।

গণমাধ্যমকে তিশা বলেন, ‘যা শুনেছেন, সব সত্য। সাবিলা নূরের কারণেই আমার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ে ভেঙে গেছে। “রকস্টার” সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার থেকে বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু আবদুল মামুন হঠাৎ করে জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না। পরবর্তীতে জানতে পারি, সাবিলা নূরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে আবদুল মামুন।’

তিশার অভিযোগ, বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কারণ জানতে মামুনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও মামুনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে কোনো প্রচেষ্টাতেই মামুন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি বলে দাবি তিশার।

তিনি আরও দাবি করেন, শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই সাবিলা নূর ও মামুনের সম্পর্কের বিষয়ে জানেন। বিষয়টি জানার পর থেকে মামুনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের এমন পরিণতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিশা বলেন, ‘ওরা দুজন আমার সঙ্গে কাজটি ভালো করেনি। সাবিলা নূর আমাদের বিষয় সব জানতেন। কিন্তু সে মেয়ে হয়েও একটিবার আরেকটি মেয়ের কথা ভাবেনি। আমার বড় ক্ষতি করল। আবদুল মামুন একজন তারকা পেয়ে আমাকে ভুলে গেছে।’

তিশার ভাষ্য, শাকিব খানের সঙ্গে ‘রকস্টার’ সিনেমায় কাজের সুযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁদের বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনে বড় আঘাত হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিশা।

তিনি জানান, এ ঘটনায় তাঁর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। তবে বিয়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে মামুন কেন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।

এদিকে সাবিলা নূর ও তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য জীবন নিয়েও সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। তবে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা আলাদা থাকছেন—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁদের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবিলা নূর ও শাকিব খানকে ঘিরেও নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজের সূত্র ধরে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। তবে শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা তাঁর দাম্পত্য জীবনে এর কোনো প্রভাব রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংকে কেন্দ্র করেই সাবিলা নূর ও আবদুল মামুনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিশা। সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বলতে চাননি। পরে গণমাধ্যমকে বার্তা দিয়ে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।

তবে তিশার অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর, আবদুল মামুন ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় বিষয়টি এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content