প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৬ , ১:১২:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরেই ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার এই বিপুল আয়ের বড় অংশই এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা থেকে। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ট্রাম্প কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেননি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯২৭ পৃষ্ঠার আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে চালু হওয়া তার ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’ থেকে রয়্যালটি হিসেবে তিনি ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার পেয়েছেন। যদিও বাজারে আসার পর থেকে ওই মিম কয়েনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দুই ছেলে এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ থেকেও তিনি ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। এছাড়া রিয়েল এস্টেট, ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বাইবেল, ঘড়ি এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি থেকেও তার কয়েক কোটি ডলার আয় হয়েছে।
আর্থিক নথি অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর নিট আয়ের ৭৫ শতাংশ ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেটে থাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ বিক্রি করেও তিনি কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।
যদিও একসময় ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির কড়া সমালোচক ছিলেন। তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ এবং ‘ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগের বছরের তুলনায় তার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগের প্রতিবেদনে তিনি ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। উপপ্রেস সচিব আনা কেলির ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না।
এক বিবৃতিতে আনা কেলি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তিনি ডেমোক্র্যাট ও মূলধারার গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের ভিত্তিহীন প্রচারণার পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে আর্থিক প্রতিবেদনে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়ও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, তাকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে গত বছর তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এছাড়া অনলাইনে বিক্রি হওয়া ডিজিটাল ছবি বা এনএফটি (নন-ফাঞ্জিবল টোকেন)–সংক্রান্ত আরেকটি চুক্তি থেকে তার আয় হয়েছে আরও ৬০ লাখ ডলার।














