সম্পাদকীয়

অসহিষ্ণু সময়: আমরা কোথায় যাচ্ছি?

  প্রতিনিধি ২৬ মার্চ ২০২৬ , ১২:২৬:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ

এটিএম রাকিবুল বাসার ,                  সম্পাদক , দৈনিক মতপ্রকাশ ।
এটিএম রাকিবুল বাসার , সম্পাদক , দৈনিক মতপ্রকাশ ।

কুষ্টিয়ায় কোমল পানীয়ের বোতলের ছিপি নিয়ে শুরু হওয়া ঝগড়া গড়িয়েছে গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগে। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এটিই এখন বাস্তবতা।

এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নেত্রকোনায় বউভাতে মাংস কম দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, সিলেটে বাউল মেলায় হামলা, ঢাকায় সড়কে সামান্য দুর্ঘটনার জেরে পিটিয়ে হত্যা—সবই একই সংকেত দিচ্ছে। আমরা দ্রুত এক অসহিষ্ণু সমাজে পরিণত হচ্ছি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো , সহিংসতার কারণগুলো ক্রমেই তুচ্ছ হয়ে আসছে। আগে বড় কোনো ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হতো, এখন সামান্য কথাকাটাকাটিই রক্তপাত ডেকে আনছে। অর্থাৎ সমস্যা ঘটনায় নয়, সমস্যা মানুষের প্রতিক্রিয়ায়।

সমাজের ভেতরে জমে থাকা অস্থিরতা এখন প্রকাশ পাচ্ছে আচরণে। মানুষ দ্রুত ক্ষেপে যাচ্ছে, ছাড় দিতে চাইছে না। নম্রতা ও সহিষ্ণুতার জায়গা দখল করেছে শক্তি প্রদর্শনের মানসিকতা। কে জিতল, সেটাই যেন এখন একমাত্র হিসাব।

এ অবস্থার পেছনে কারণও স্পষ্ট। পরিবার দুর্বল হয়েছে, শিক্ষায় মূল্যবোধের চর্চা কমেছে, আর আইনের শাসনের ঘাটতি মানুষকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে। তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিড়ের মনস্তত্ত্ব সংঘর্ষকে উসকে দিচ্ছে। এখন ঝগড়া থামানোর চেয়ে বাড়ানোই যেন সহজ।

সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, এই প্রবণতা সংক্রামক। একজন থেকে আরেকজন, একটি এলাকা থেকে আরেকটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজে সহিষ্ণুতার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে চোখের সামনে।

প্রশ্ন হলো, এভাবে আর কতদিন?

রাষ্ট্র যদি দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে আইন প্রয়োগ না করে, শিক্ষা ও পরিবার যদি মূল্যবোধ তৈরির জায়গায় ফিরে না আসে, তাহলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে । এটা অনুমান না, বাস্তব আশঙ্কা।

অসহিষ্ণুতা কোনো একদিনে তৈরি হয়নি, একদিনে যাবে না। কিন্তু এখনই থামানোর উদ্যোগ না নিলে, খুব শিগগিরই ছোট ঘটনা আর ছোট থাকবে না—সবকিছুই বড় হয়ে উঠবে, আর সেই বড় হওয়ার খেসারত দিতে হবে পুরো সমাজকে।

লিখেছেন: এটিএম রাকিবুল বাসার , সম্পাদক দৈনিক মতপ্রকাশ

আরও খবর

Sponsered content