আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা, আহত ১২

  প্রতিনিধি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:১৯:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর (এসবিইউ) সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিনের বেলায় চালানো এ হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে এই প্রথম দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি ভবনে সরাসরি আঘাত হানল রুশ বাহিনী।

মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাদানকারী দল পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তার কাজ শুরু করে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ড্রোনটি এসবিইউ প্রধান ওলেক্সান্ডার পোকলাদের কার্যালয় লক্ষ্য করে সরাসরি ছোড়া হয়েছিল। তবে হামলার সময় পোকলাদ নিরাপদ ছিলেন এবং তিনি আহত হননি বলে পরে জানিয়েছে এসবিইউ।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাব দেওয়ার জন্য পোকলাদকে ‘উপযুক্ত ও দৃশ্যমান’ প্রতিক্রিয়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে রাশিয়ার ওপর একই ধরনের হামলা চালানোর কথাও বলেন তিনি। এ প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সহযোগিতা করবে বলেও জানান প্রেসিডেন্ট।

কিয়েভ গত আট দিন ধরে প্রায় টানা রুশ বিমান হামলার মুখে রয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের একাধিক ভবনের পাশাপাশি শহরের উপকণ্ঠে গুদাম ও কারখানাতেও হামলা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে কোকা-কোলার একটি কারখানাও রয়েছে।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, গত মাসে শুরু হওয়া প্রায় নিরবচ্ছিন্ন হামলায় কিয়েভ শহর ও আশপাশের অঞ্চলে অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।

তবে এসবিইউ সদর দপ্তরে হামলাকে সংঘাতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটিতে রুশ ড্রোন ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি এখন গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত কয়েক দিনে রাশিয়ার হামলায় ব্যবহৃত বেশির ভাগ ড্রোনই ছিল জেটচালিত। এসব ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। দ্রুতগতির কারণে এগুলো ইউক্রেনের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।

এ ধরনের ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের মোবাইল ফায়ার ইউনিটগুলোর সক্ষমতাও সীমিত। ফলে এগুলো ভূপাতিত করতে মূলত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র অথবা যুদ্ধবিমান প্রয়োজন হয়। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই ইউক্রেনের মজুত অত্যন্ত সীমিত।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের সরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। কিয়েভে অতীতেও সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে দিনের বেলায় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি ভবনে সরাসরি আঘাতের ঘটনা বিরল।

ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বা যুক্তরাজ্যের এমআই৫-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। ইউক্রেনের ভেতরে সংঘটিত রুশ অপরাধ তদন্তসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে সংস্থাটি।

ঐতিহাসিক কিয়েভের একেবারে কেন্দ্রস্থলে এসবিইউর সদর দপ্তর অবস্থিত। ভবনটির ঠিক বিপরীতেই রয়েছে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল। কাছেই রয়েছে কিয়েভের ঐতিহাসিক গোল্ডেন গেট ও ন্যাশনাল অপেরা।

ফলে কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে এসবিইউ সদর দপ্তরে সরাসরি ড্রোন আঘাত শুধু ইউক্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই সামনে আনেনি, যুদ্ধের এই পর্যায়ে রাশিয়ার হামলার পরিধি ও তীব্রতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আরও খবর

Sponsered content