সারাদেশ

ঝিকরগাছায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

  এম. আমিরুল ইসলাম জীবন, স্টাফ রিপোর্টার: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:৪১:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বাজার এলাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর সাবিকুন নাহার (৩১) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন।

নিহত সাবিকুন নাহার উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাঠশিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী ও মাঠশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ছিলেন।

স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেসে চিকিৎসক ডা. পল্লবী সাহার মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ১৫ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয় এবং অগ্রিম ৩ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সাবিকুন নাহার বাড়ি থেকে ভোট দিয়ে ক্লিনিকে যান।

পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিক থেকে ফোন করে দ্রুত রোগী আনার কথা বলা হয়। পরে স্বজনরা রোগীকে ক্লিনিকে রেখে গেলে তাদের অজ্ঞাতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কিছু সময় পর নবজাতককে স্বামীর হাতে দিয়ে জানানো হয়, রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্ত প্রয়োজন। এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনায় রেফার করা হয়।

স্বজনদের দাবি, ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ডেন্টিস্ট মোছা. নিলুফা ইয়াসমিন অপারেশন করান। পরে পরিস্থিতি জটিল হলে দায় এড়াতে খুলনায় পাঠানো হয়। খুলনায় নেওয়ার পর চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় এবং জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর এবং অপারেশনের সময় কোনো অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন না। একজন চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজেকে ডাক্তার নন বলে জানান এবং বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসক চলে গেছেন।

এ বিষয়ে বাঁকড়া মেডিকের সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। অপারেশন করেছেন সার্জন ডা. মেহেদী হাসান, তার সঙ্গে কথা বলুন।”

সার্জন ডা. মেহেদী হাসান বলেন, “আমি অপারেশন করেছি। তবে অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়া অপারেশন করা ঠিক হয়নি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুর রশিদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলাম না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি পূর্বে ‘বাঁকড়া সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে পরিচালিত হতো। ২০২৩ সালে একটি নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করা হয়।

ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content