আন্তর্জাতিক

টাইফুন চাম্পির আঘাতের আশঙ্কায় অচল তাইওয়ান, নিহত ১

  প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১১:৪৪:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির আঘাতের আশঙ্কায় শুক্রবার প্রায় অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। ঝড়টি দুর্বল হয়ে এলেও দ্বীপটিতে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদেরা।

এর মধ্যেই ঝড়ের প্রভাবে একজন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। দুর্গম পার্বত্য এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া চাম্পি এখনো কেন্দ্রের কাছে ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে আনছে। শুক্রবার ঝড়টির অবস্থান ছিল তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে চীনের উপকূলের দিকে যাবে। পরে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে ঝড়ের গতিপথ পরিবর্তিত হলে তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ লিউ পেই-তেং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তাইওয়ানের দিকে এগোনোর সময় ঝড়টি থেমে গেলে, ঘুরপাক খেলে কিংবা এদিক-ওদিক দুলতে থাকলে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় চাম্পির ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি বেশ বড়। ঝড়টির গতি কমে গেলে তাইওয়ানে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তিশালী বাতাসের প্রভাব থাকবে।

উপকূলীয় শহরগুলোতে মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী তাইপেসহ দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকাগুলোতে প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উভচর যান ও ফোলানো যায় এমন উদ্ধার নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সুয়াও বন্দরের প্রধান লি মিং-চেন বলেন, প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকাজে নামানো হবে। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় উভচর যান ব্যবহার করা হতে পারে। অতীতে একাধিক টাইফুনে ভয়াবহ বন্যার শিকার হয়েছিল বন্দরনগরীটি।

আবহাওয়া প্রশাসনের হিসাবে, চাম্পির ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এর ফলে তাইওয়ানের অধিকাংশ এলাকা ঝড়টির প্রভাবে পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এর প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।

 

বন্ধ স্কুল, অফিস ও ফ্লাইট

টাইফুনের কারণে শুক্রবার তাইওয়ানের আর্থিক বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে। চীনের উপকূলের কাছে অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত কিনমেন দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া অন্যত্র স্বাভাবিকভাবে স্কুল ও অফিস চালু রাখা হয়নি।

পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজধানী তাইপেতে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। শহরটির পাতালরেলসহ গণপরিবহন চালু থাকলেও সেবার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

টাইফুনের প্রভাবে প্রথমে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের পশ্চিমতম জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ইয়োনাগুনিতে ঝড়টি আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

টাইফুন মোকাবিলায় তাইওয়ানের প্রস্তুতি সাধারণত বেশ ভালো হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। গ্রীষ্মকালে এ ধরনের ঝড় বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও দ্বীপটিতে টাইফুন আঘাত হানতে পারে। এবার চাম্পির সম্ভাব্য গতিপথ ও বিস্তৃত ঝড়ো বাতাসের কারণে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content