জাতীয়

তারেক যুগের সূচনা: প্রথম নির্বাচনে বাজিমাত, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ

  প্রতিনিধি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:৩০:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ

দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় নিয়ে গেলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজেও দুটি আসনে জয়ী হয়ে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়েই তিনি সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারণা পরিচালনা করেন। ফলাফল ঘোষণায় দেখা যায়, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনে ভোট হয়ে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

শপথ গ্রহণের পর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় ঐক্য ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য রক্ষা—এই দুই বিষয়ই নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা ছিল দীর্ঘ ও বন্ধুর। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে যান এবং প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে কাটান। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করেন তিনি। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।

নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে থাকা ৭৭টি মামলা সাম্প্রতিক সময়ে খারিজ বা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর পরই তিনি সরাসরি নির্বাচনি রাজনীতিতে অংশ নেন এবং প্রচারণায় ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বিপুল ভোটে জয় পাওয়ার ফলে এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। নতুন সরকারের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ‘তারেক যুগ’ কতটা সফল হবে।

আরও খবর

Sponsered content