সারাদেশ

তালায় এক বিকেলে দুই বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, দ্যুতিদীপন বিশ্বাস ৭ নভেম্বর ২০২৬ , ১২:৫০:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের দুটি এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) মেয়েদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানতে পারেন, কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরপাড়া এলাকায় একটি বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে। সেখানে ১৫ বছর বয়সী শরিফা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল খলিশখালী ইউনিয়নের লাউকাটী এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক ওসমান গাজীর। শরিফা স্থানীয় রাজমিস্ত্রি শহীদুল সরদারের মেয়ে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে যান তালা উপজেলা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার রিঙ্কু আইচ, কুমিরা ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক শম্পা ভট্টাচার্য ও দপ্তরি মিনা দে। পাটকেলঘাটা থানার এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলও অভিযানে অংশ নেয়।

তবে অভিযানের খবর পেয়ে বর কনেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা দুই পরিবারের অভিভাবকদের খুঁজে বের করে মুচলেকা নেন। তাঁদের আগামী সোমবার সকাল ১০টায় মেয়েসহ ইউএনওর কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

প্রথম বাল্যবিয়েটি বন্ধ করে ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দারা কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকায় আরেকটি বাল্যবিয়ের আয়োজনের খবর দেন। সেখানে মফিজুল ইসলামের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। সে কুমিরা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করেন। এ ঘটনায়ও মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। তাঁদের আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেয়েসহ ইউএনওর কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের খুঁজে বের করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়েমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও খবর

Sponsered content