আইন-আদালত

হত্যা মামলায় কারাগারে ইকবাল সোবহান চৌধুরী

  প্রতিনিধি ৫ নভেম্বর ২০২৬ , ৫:২৪:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা, বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমীর হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী চৌধুরী মো. গালিব রাগীব জামিন আবেদন না করলেও কারাগারে সুচিকিৎসা এবং ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে চৌধুরী মো. গালিব রাগীব বলেন, আসামি ডিবিসি নিউজের সিইও। একজন সিনিয়র সাংবাদিক। এছাড়া তিনি একজন অসুস্থ মানুষ। ডায়াবেটিস, প্রেশার ও নিউরো সমস্যা রয়েছে। তাকে যেন কারাগারে ডিভিশন দেওয়া হয় এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী মামলার বিষয় তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে খুশি করে ডিবিসির মালিক হন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। এরপর তথ্য উপদেষ্টার পদ পান। তথ্য উপদেষ্টা হয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনের লাইসেন্স দেন, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। জুলাই আন্দোলনের সময় যেন আন্দোলনকারীদের বক্তব্য মিডিয়াতে প্রচারিত না হয় সেই ব্যবস্থা করেন। সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবুসহ একটা সংগঠন করেন। টেলিভিশনগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। এসব করে গুলশান-বনানী এলাকায় অনেক সম্পদ অর্জন করেন। শেখ হাসিনার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। প্রথমিকভাবে হত্যা মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাকে রিমান্ডে নেয়া হতে পারে তাই তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

শুনানি শেষে আদালত ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং জেল কোডের বিধান অনুযায়ী চিকিৎসা ও ডিভিশনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বেসরকারি টিভি ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে টেলিভিশন স্টেশনটির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোলাগুলিতে চোখে গুলি লাগে লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাযিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফের। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় আরিফের বাবা ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার ৫৩ নম্বর আসামি হিসেবে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content