প্রতিনিধি ৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২:৫১:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে এসে সাংবাদিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মোবাইল কেড়ে নিলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি।
এদিকে পরীমণির সঙ্গে আসা তার নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে গেছে।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় জামিন নিতে আসার পর এই ঘটনা ঘটে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে এসে পৌঁছান পরীমণি। পৌছানোর পর আদালত প্রাঙ্গণে গাড়িতেই বসে থাকেন পরীমণি। তাকে ঘিরে রাখেন তার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী। আশপাশ দিয়ে মানুষের চলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। কালো পোশাক পরিহিত ১১ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ পোশাকে আরও কয়েকজনকে তাকে ঘিরে রাখতে দেখা যায়।
পরীমণি আত্মসমর্পণ খবরে সাংবাদিকরা আদালতপাড়ায় ভীড় জমান। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ী থেকে এজলাসের উদ্দেশ্যে বের হন পরীমনি। তার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে এজলাসে নিয়ে যান।
এ সময় সাংবাদিকরা ছবি, ভিডিও করতে গেলে ধাক্কাধাক্কি করেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা। লিফটে ওঠার সময় ভিডিও করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজুর মোবাইল কেড়ে নেন পরীমনি। পরে রবিউল হোসাইন আবার টান মেরে মোবাইল ফিরিয়ে নেন।
এরপর আদালতে আসামির কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান পরীমণি। আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিনের আদেশ দেন।
এদিকে জামিন নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনিকে ঘিরে রাখেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে, ভিডিও করতে গেলে ধাক্কাধাক্কি করেন পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা। তাদের ধাক্কায় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়। সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়।
এরপর পরীমণি নিচে এসে গাড়ীতে ওঠার আগে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজুর দিকে তেড়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের অকথা ভাষায় গালিগালাজ করে আদালত প্রাঙ্গন ছাড়েন তিনি।
এদিন পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় অনেক সাংবাদিক হেনস্থা হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এমনভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে আদালতে আসা নিয়ে পরীমণির প্রতি অনেক আইনজীবী ক্ষোভও ঝেরেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন আদালতে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।















