আইন-আদালত

বান্ধবী দিশা ফের তিন দিনের রিমান্ডে

  প্রতিনিধি ৪ নভেম্বর ২০২৬ , ৩:৪৫:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশার ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন জাবেদ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা সাতটি কারণ উল্লেখ করেন। আবেদনে বলা হয়, এর আগে চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দিশা জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দিন ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফ সাউরির সঙ্গে উত্তরা এলাকার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন তিনি। ওই দিন সন্ধ্যায় একাধিকবার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রুআপ কমপ্লেক্সে অবস্থিত ‘সিপি ফাইভ স্টার’ ফাস্টফুডের খাবারও খান তারা। এ ছাড়া তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেল গ্যারেজে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির কথাও জানিয়েছেন দিশা।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে সেগুলো গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি অত্যন্ত কৌশলী হওয়ায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং নীরবতা পালন করছেন। এ ছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করাও প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধারের স্বার্থে দিশাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে দাবি করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা সাতটি কারণের মধ্যে রয়েছে— ঘটনার দিন তাহসিফ ও দিশার মধ্যে সিপি ফাইভ স্টার রেস্তোরাঁয় কোনো আবেগপ্রবণ কথাবার্তা বা বাক্‌বিতণ্ডা হয়েছিল কি না, নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে তাদের মধ্যে কোনো কথা-কাটাকাটি হয়েছিল কি না, ঘটনার আগে তাদের সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন চলছিল কি না, হত্যার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় আসা তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসার নিচে নামেন তাহসিফ। পরে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তিনি। দীপ ২৯ অক্টোবর পুলিশকে জানিয়েছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি।

ওই রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ।

আরও খবর

Sponsered content