রাজনীতি

শ্রমিকদের মজুরি নিশ্চিতে ভর্তুকি ও রেশনিং চালুর প্রস্তাব জিএম কাদেরের

  প্রতিনিধি ৪ নভেম্বর ২০২৬ , ৩:৪৬:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। একই সঙ্গে মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রেশনিং ব্যবস্থায় সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

আজ বুধবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জি এম কাদের এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে জিএম কাদের বলেন, ‘দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। অথচ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে বর্তমান বেতন কাঠামোয় শ্রমিকদের পক্ষে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ও রান্নার জ্বালানির ব্যয় মেটাতে গিয়ে লাখ লাখ পোশাকশ্রমিক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যয় মেটাতে ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন যৌক্তিক।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। আন্দোলন বন্ধ করতে শ্রমিকদের শারীরিকভাবে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।’

তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির পাশাপাশি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংকটও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তার মতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অভাব, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট এবং বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অনেক কারখানা সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। এর মধ্যে শ্রমিকদের বাড়তি বেতনের সম্পূর্ণ দায়ভার মালিকদের ওপর চাপানো হলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব এবং ভোগ্যপণ্যের বাজার সংকুচিত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, ‘শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের দাবির পেছনেই বাস্তবতা রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে ন্যায়সংগত সমাধান বের করতে হবে। শ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

এ ক্ষেত্রে নগদ অর্থসহায়তার পাশাপাশি রেশনিং ব্যবস্থায় চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সরবরাহের প্রস্তাব দেন তিনি। যথাযথ হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে এসব পণ্য মালিকদের মাধ্যমে অথবা সরাসরি শ্রমিকদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

আরও খবর

Sponsered content