প্রতিনিধি ৪ নভেম্বর ২০২৬ , ১২:৪৪:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় এপারের অনেকেই সীমানা পাড়ি দেন। শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। নিম্নবর্ণের (নমঃশূদ্র) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ মাথা গোঁজেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ পরগণা জেলার দ্বীপ মরিচঝাঁপিতে। সরকারি আশ্বাসে বাসাও বাঁধেন তারা।
তবে সে আশ্বাস ছিল যেন ভোটের রাজনীতির অংশ। ভোট শেষ হতেই শুরু হয় উদ্বাস্তু উচ্ছেদ কার্যক্রম। মরিচঝাঁপিতে খাবার-পানি বন্ধ করে দেওয়া, ঘরে আগুন দেওয়া, নৌকা ডুবানোসহ নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে সেসময় ভারতের রাজ্য সরকার মানবিক হয়নি। নিন্দিত হলেও দেয়নি পাত্তা।
অবশেষে ১৯৭৯ সালের ১৬ মে উদ্বাস্তু শূন্য হয় মরিচঝাঁপি। সরকারি হিসেবে, সেখানে মোট নিহতের সংখ্যা মাত্র দুই জন হলেও বিভিন্ন হিসেবে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। গণহত্যার ওই ইতিহাস দৃশ্যমাধ্যমে চিত্রায়িত করেছেন সুকর্ন সাহেদ ধীমান। বানিয়েছেন ‘ফেউ’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ। গেল বছরের ২৩ জানুয়ারি দেশের মুক্তি পায় এর প্রথম পর্ব। এবার মুক্তি পাচ্ছে দ্বিতীয় অধ্যায় ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’।
প্রথম সিজন শেষে বড় প্রশ্ন ছিল- সুনীল কি আদৌ বেঁচে আছে, নাকি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে মারা গেছে? একইসঙ্গে সুন্দরবনের মৌয়াল থেকে জলদস্যু বাহিনীর সর্দারে পরিণত হওয়া মার্শাল (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান) কি পারবে অধিকার আদায় করতে? ‘ডুমুরঝাপি-এর মানুষগুলো কী আশ্রয় পাবে? ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’-তে এগুলোর উত্তর ছাড়াও একটি নির্দিষ্ট জনপদের ভূরাজনীতির নানা বিষয় পরিষ্কার হতে পারে বলে জানান সিরিজটির নির্মাতা সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।
৯ পর্বের সিরিজটি ওটিটি মাধ্যম চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে আগামী ১১ নভেম্বর রাত ১২টায় (১২ নভেম্বর)। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটির টিজার। যেখানে ইংরেজিতে কিছু কথা বলতে শোনা যায়, যার বাংলা করলে হয় এমন- ’আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম, জঙ্গলের একটা নিজস্ব নিয়ম-আইন রয়েছে। সেটা ভাঙলে, তাকে সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়।’ সংলাপ এবং দৃশ্যের বুননে টিজারটি দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছে উপভোগ্য।
নির্মাতা সুকর্ণ শাহেদ ধীমান বলেন, ‘প্রথম সিজনে আমরা গল্পটির ভিত্তি ও ইতিহাস খুব বিশদভাবে তৈরি করেছিলাম। এবার গল্পটি একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাচ্ছে। “ফেউ কমপ্লিট সাগা” দেখলে দর্শক পুরো গল্পটি একেবারে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন। এমনকি যারা প্রথম সিজনটি দেখেননি, তারাও এটি দেখলে কোনো অসম্পূর্ণতা বোধ করবেন না। বলতে গেলে, আলাদা করে প্রথম সিজন বলে আর কিছু থাকছে না; “ফেউ কমপ্লিট সাগা”-ই ফেউয়ের আসল ও পূর্ণাঙ্গ গল্প।’
নির্মাতা আরও বলেন, ‘এটি শতভাগ দেশি গল্পের সিরিজ। এ গল্পে দক্ষিণবঙ্গের বীরত্বগাথা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল প্রায় এক বছর ধরে খুলনা বিভাগের চালনা, বটিয়াঘাটা, বাজুয়া, মংলা, খুলনা ও সাতক্ষীরাতে শুটিং হয়েছে।’
‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’-তে অন্যতম মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সুনীল ও মার্শাল চরিত্রটির পরিণতি। চরিত্র দুটিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান।
চরিত্রটি নিয়ে নূর ইমরান বলেন, ‘মার্শাল চরিত্রটি একজন প্রকৃত সংগ্রামীর প্রতিচ্ছবি। তার লুক, পোশাক, শারীরিক ভাষা ও আচরণে দারুণ একটি গভীরতা রয়েছে। পুরো কাজটির অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। অবশেষে দর্শক পুরো গল্পটা দেখতে পাবেন এবং এটি দেখার পর তারা আসল রোমাঞ্চটা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করছি।’
সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তানভীর অপূর্ব, হোসাইন জীবন, তাহমিনা অথৈ, রিজভি রিজু, ফাদার জোয়া, বাবলু বোস, এ কে আজাদ সেতু, আনোয়ার হোসেন, রন্তিক দীপু, আমিরুল ইসলাম, আবিদ মল্লিক। সিরিজে খুলনা, বাগেরহাট ও বটিয়াঘাটার শতাধিক শিল্পী অভিনয় করেছেন।















