প্রতিনিধি ১ নভেম্বর ২০২৬ , ৮:১১:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত আবুল কাশেমের স্ত্রী আফিয়া আক্তার হত্যা মামলায় ছেলে তাহসিন তারিক অনর্বকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এদিকে এই মামলায় এদিন নিহতের বাসার গৃহকর্মী মোছা. নার্গিস বেগম সাক্ষী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নার্গিস বেগমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এর আগে, গতকাল শনিবার ধানমন্ডি এলাকা থেকে অনর্বকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে আদালতে থাকাবস্থায় অর্নব সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউআইইউ-এর বিবিএর ছাত্র আমি। ভোরে দেখি মা ডাইনিং রুমে পড়ে আছে, রক্তাক্ত অবস্থায়। আমাদের বাসার নিচে একটি মসজিদ আছে। হুজুরকে ডেকে আনি। ৯৯৯-এ ফোন করি, কিন্তু তারা রেসপন্স করে না। পরে ধানমন্ডি ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে পুলিশের টহল গাড়ি দেখে বিষয়টি জানায়। তারা আমার সাথে বাসায় আসে। কথাও বলে আমার সাথে। আমাকে পুলিশ নিয়ে আসছে। কি কারণে নিয়ে আসছে বলছে না। কারো সাথে আমাকে যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না। আমি কিছু জানি না। মা হার্টের রোগী ছিলেন। এ ছাড়া তার ডায়াবেটিসও ছিল।’
ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে আফিয়া আক্তারকে খুনের ঘটনায় চিকিৎসক মেয়ে নাহরিন নাশিদ স্বর্ণা ছোট ভাই অনর্বকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ‘‘অর্নব কোনো কাজকর্ম করত না। সে প্রায় মায়ের কাছে টাকা চাইত। টাকা না দিলে ঝগড়া করত এবং মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসার ম্যানেজার মাহবুব স্বর্ণাকে ফোন করে জানান, বাসার দারোয়ানের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন তাদের বাসায় ঝামেলা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসকে ফোন করেন। নার্গিস স্বর্ণাকে জানান, অর্নব আফিয়া আক্তারকে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে ডাইনিং রুমে ফেলে রেখেছে। স্বর্ণা মাহবুবকে ফোন করে তার মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। আফিয়া আক্তারকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিসের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আফিয়া আক্তার রাতের খাবার খেয়ে বেডরুমে ঘুমোতে যান। অর্নব তার বেডরুমে ছিল। আফিয়া আক্তারের চিৎকার শুনে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নার্গিস বেগম ডাইনিং রুমে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, অনর্ব ছুরি হাতে দাড়িয়ে আছে আর আফিয়া আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নার্গিস বেগম আফিয়া আক্তারকে ধরতে গেলে অর্নব তাকেও ছুরি দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং বাসা থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর অর্নব মায়ের মৃত্যু নিশ্চিত করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।’’





















