সারাদেশ

বিএনপির বাধায় আজও জুমার নামাজ পড়াতে পারলেন না জামায়াতের এমপি

  প্রতিনিধি ২৪ জুলাই ২০২৬ , ৬:৪১:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার সাঁথিয়ায় পৌর এলাকায় পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের জুমার নামাজে ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জামায়াতের ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও সাঁথিয়া আসনের (পাবনা-১) জামায়াতের ইসলামীর বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়াতে চান। বিএনপি কর্মী সমর্থকদের আপত্তির মুখে সেটি সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে আজ শুক্রবার তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় আবারও মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন। এ সময় মসজিদের ভেতরেই জামায়াত-শিবির সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় আগে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুম্মার নামাজ শেষ হয়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম জানান, ‘দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারও নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি পারে না। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবলে এসেছিল। এসে ইমাম সাহেবের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিচ্ছু বলেনি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করে। এ সময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপি কর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল ঘুষি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে পুলিশ সবাইকে থামালে পরে ইমাম দিয়েই নামাজ হয়।’

অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘এমপি সাহেব ইচ্ছা করে ক্ষমতা দেখাতে আজকে জুমার মতো পবিত্র দিনে ঝামেলাটা করলেন।’

এ বিষয়ে পাল্টা অভিযোগ করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুমাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা করবে জন্য যাওয়া হয়নি। পরে আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘ঝামেলাটি তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করেছে। গোপীনাথপুর বাসিন্দা বিএনপি নেতা করিম, সেক্রেটারি সিরাজসহ ওই এলাকার বাসিন্দা নয় এমন বহু নেতাকর্মী নিয়ে এসে তারা এই ঝামেলাটি করে। আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধর করে। নামাজ পরে আমাদের এক কর্মীর দোকানে আক্রমণ করে লুটপাট ও মারধরও করেছে।’ এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও দাবি করেন ব্যারিস্টার মোমেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘এমপি সাহেবের ওখানে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে- এমন আশঙ্কাজনক সংবাদ পুলিশের কাছে ছিল। তাই সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। এরপরও নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।’

আরও খবর

Sponsered content