জাতীয়

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি স্থগিত

  প্রতিনিধি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩:৩৩:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ সোমবার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সব ধরনের বদলি বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। নতুন শিক্ষকদের পদায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর আবার বদলি কার্যক্রম চালু করা হবে।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতার বিষয় সামনে এসেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি যে নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। ১৪ হাজারের ফিক্সড হয়ে গেলে নতুন করে আবার চালু হবে।’

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের যোগদান শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। এরপর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে।

নতুন শিক্ষকদের পদায়নের পর বদলি কার্যক্রম কোন নীতিমালায় পরিচালিত হবে, তা তখন নির্ধারণ করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বদলি নীতিমালায় কার্যক্রম চলবে, নাকি নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করা হবে—সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

এর আগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২১ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনের ফল প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে উপবৃত্তি কার্যক্রমকে আরও বেশি প্রয়োজনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

আরও খবর

Sponsered content