মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:০৩:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ
স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার কাঠামো ব্যবহার করেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দানবে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, এই কাঠামো যদি বহাল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনা ট্যাংকে চড়ে বা উড়ে এসে ক্ষমতায় আসেননি, সংবিধানও বাতিল করেননি; তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আমূল পরিবর্তন এনে পুনর্লিখন করেছেন। সেই স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করেই তিনি দানবে পরিণত হয়েছেন। এ কাঠামো অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় আসা ব্যক্তিদের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। আমরা যদি গণতান্ত্রিক আচরণ ও মূল্যবোধ চর্চা না করি, তাহলে নির্বাচন যতই হোক না কেন, তা সুষ্ঠু হবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ উত্তর এলেও এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলেও দেশ পুরোপুরি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিষয়টি বহুলাংশে নির্ভর করে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এর কোনো বিকল্প নেই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সদাচরণ, সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশনের ন্যায়সংগত বিধিবিধান প্রণয়ন প্রত্যাশিত।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়; এটি গণঅভ্যুত্থানের সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো তিন মাসের সীমাবদ্ধতা নেই। নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার—এই অগ্রাধিকার সামনে রেখে সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। ফলে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালানো তাদের অঙ্গীকারের অংশ।




















