রাজনীতি

এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত: রিজভী

  প্রতিনিধি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫:০২:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর রহস্যের তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিদ আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘একটা বিষয় আমার মনের মধ্যে সবসময় উঁকি দেয়… সাইফুর রহমান সাহেব দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে মারা গেলেন। এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা ছিল না কোন জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল? এটাও আমাদের আজকে আমাদের খুঁজে বের করা দরকার। কারণ তার (সাইফুর রহমান) মতো একটা মানুষ যিনি এরকম একটি ছোট দেশ দারিদ্র পীড়িত দেশকে একটি অর্থনীতির ভিত্তির উপরে যিনি দাঁড় করিয়েছেন, একটা ফাউন্ডেশন দিয়েছেন… এটি অনেক দেশ পছন্দ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দেশ বা ভেতরের অনেক শক্তি যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পছন্দ করে না, বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিতে গড়ে উঠবে, নিজের কৃষি অর্থনীতির উপরে ভিত্তি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হবে, এটা আমার মনে হয় কেউ কেউ পছন্দ করেনি। তাই একটা সন্দেহ কিন্তু আছে তার মৃত্যুর দূর্ঘটনা নিয়ে? আমরা তখন থেকে শুনেছি যে, সাইফুর রহমান সাহেব এর এই দুর্ঘটনা এটা কি নিছক দুর্ঘটনা? এর পেছনে কোন ষড়যন্ত্র আছে কি না এটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে টানা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী এম সাইফুর রহমানের কর্মজীবন তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মরহুম সাইফুর রহমান এই জাতির সম্পদ,বিএনপির গৌরব।তার নানা অবদানের কারণে তিনি জাতির সম্পদ। এত বিস্তৃত তার অর্জন, এই অর্জন আজকে দেশে বিদেশে স্বীকৃত। উনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করতেন এই কারণে আমরা গর্ববোধ করি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান পরিচালক একটি গল্পের কথা বলেছেন যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) তার স্বামীকে সাইফুর রহমান সাহেবকে দেখিয়ে বলেছেন যে একজন সাকসেসফুল অর্থমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন তা নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) ড. মনমোহন সিং তিনি নিজেও অর্থনীতিবিদ, তিনি সাইফুর রহমানের পলিসি, সাইফুর রহমানের প্রণীত নীতিরওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে উদারীকরণ, যে লিবারলাইজেশন সেটিকে তিনি অনুসরণ করেছেন ভারতে চালু করেছেন। আমরা সেই সাইফুর রহমানকে অনেক সময় ভুলে যাই। আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না, আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে।’

রিজভী বলেন, ‘এম সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনীতির ব্যবস্থাপক ছিলেন যিনি টাকা পাচার বন্ধ করেছিলেন, ব্যাংক লুট করে টাকা নিয়ে যাওয়ার যে সিন্ডিকেশন যে লুটপাট তন্ত্র বিগত ১৭ বছরে দেখেছিলাম। সাইফুর রহমান যখন এদেশের অর্থমন্ত্রী উনি যখন এই জাতির অর্থনীতির ব্যবস্থাপক তখন এই লুটপাটের কথা শোনেনি, টাকা পাচারের কথা শোনেনি, ব্যাংক লোপাট হয়ে যাওয়ার কথা শুনেনি এবং ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকার তার যে ঘাটতি বাজেট সেটা পূরণ করার কথা শুনেনি। কারণ বাজেট তার নিজস্ব অর্থনীতিতেই তার নিজস্ব ট্যাক্স কালেকশনের মধ্যে দিয়েই সেই বাজেট রচিত করতেন। ব্যাংকের টাকা ব্যাংক থাকত। ব্যাংক ছিল তার সময় ভায়বল। গত ১৭ বছর ছিলো তো লুটপাটের অর্থনীতি, ফোকলা করে দেয়ার অর্থনীতি। লুটপাট এবং টাকা পাচার যেন আমাদের অর্থনীতির একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল।’

এম সাইফুর রহমানের জাতীয় অর্থনীতি ভিত্তি তৈরি করতে গিয়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাও তুলে ধরেন তিনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এম সাইফুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তির তৈরির কারিগর। মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে কিভাবে দেশকে সামনের দিয়ে, অগ্রসর পথে নিয়ে যাওয়া যায় তার মহা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। এজন্য তিনি অর্থনীতি খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সফলভাবে। সাইফুর রহমান স্যারের সেই অর্থনীতির গতি পথে আজকে বাংলাদেশ এই জায়গা এসেছে।’

অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সান্নিধ্যে থাকা কাইয়ুম চৌধুরী প্রয়াত এ অর্থমন্ত্রীর জীবনের কিছু ঘটনাও তুলে ধরেন

এম সাইফুর রহমানের ছেলে সংসদ সদস্য এম নাসের আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংসদের হুইপ জি কে গউস, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস সভাপতি হেলাল খানসহ সিলেট ও মৌলীভীবাজারের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাক্ষনবাড়িয়া এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি থেকে ঢাকা আসছিলেন তিনি।

আরও খবর

Sponsered content