প্রতিনিধি ৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২:৪৪:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় সেশনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চা বিরতির সময় তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৮০ রান। চতুর্থ উইকেটে আমির জ্যাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহামের ১৩১ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ পায় সফরকারীরা। দুজনই তুলে নিয়েছেন অর্ধশতক।
চা বিরতির আগে উইকহামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন হাসান মাহমুদ। তবে তার আগে অভিষেক টেস্টেই ১৪৫ বলে ৫ চারসহ ৬১ রান করেন উইকহাম। অন্য প্রান্তে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন জ্যাঙ্গু। তার সঙ্গে ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন জাস্টিন গ্রিভস।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন জ্যাঙ্গু। তাসকিন আহমেদের বল মিডউইকেট দিয়ে সজোরে খেলে সীমানাছাড়া করেন তিনি। এরপর তাসকিনের বলেই কভার ড্রাইভ ও পুল শটে দুটি চার মারেন উইকহাম। নাইম হাসানের বলে মিডউইকেট দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আক্রমণাত্মক মনোভাবের জানান দেন জ্যাঙ্গু।
ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে পুল করে এক রান নিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন উইকহাম। এ সময় বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা শুরু করে বাংলাদেশ। নিজের বলে জ্যাঙ্গুর একটি ক্যাচ ফেলেন মাহমুদ। ৬৮ রানে থাকা বাঁহাতি এই ব্যাটার পুল করতে গিয়ে ব্যাটের নিচের অংশে বল লাগালে সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি মাহমুদ।
এরপর উইকহামকে চাপে ফেলতে একের পর এক শর্ট বল করতে থাকেন মাহমুদ। অন্যদিকে ডানহাতি ও বাঁহাতি—দুই ধরনের ব্যাটারের বিপক্ষেই অফসাইডে ছয়জন ফিল্ডার রেখে বোলিং করেন মেহেদী হাসান।
শেষ পর্যন্ত উইকহামের বিপক্ষে মাহমুদের কৌশল কাজে দেয়। ক্রিজে স্থির দাঁড়িয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্যের একটি বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি উইকহাম। বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করলে ৬১ রানে থামে তার ইনিংস।
এরপর ক্রিজে আসা গ্রিভস ৪৫ বল পর মাহমুদের বলে সোজা ব্যাটে চার মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সীমানা খরার অবসান ঘটান। সেশনের শেষ বলেও আরেকটি চার মারেন তিনি।
এর আগে দিনের শুরুতেই একের পর এক ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারিন চন্দরপল ছিটকে যান। ফলে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইনিংস উদ্বোধন করতে হয় জশুয়া ডা সিলভাকে।
পঞ্চম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে ব্র্যান্ডন কিংয়ের মিডল ও লেগ স্টাম্প উপড়ে গেলে আরও চাপে পড়ে সফরকারীরা। পরের ওভারেই কাভেম হজকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। আউট হওয়ার আগে বেশ কিছুক্ষণ তাকে চাপে রেখেছিলেন এই পেসার। লেন্থ বুঝে বল ছেড়ে দিতে গিয়ে হজের অফ স্টাম্পের বেল পড়ে যায়।
এরপর অভিজ্ঞ এই বাংলাদেশি পেসারের ইনসুইং বল খেলতে গিয়ে ব্যাটে সংযোগ ঘটাতে না পেরে ১২ রানে বোল্ড হন ডা সিলভা।
তবে সিলেটের উইকেট থেকে সকালের বাড়তি সুইং ও মুভমেন্ট কমে আসার পর জ্যাঙ্গু ও উইকহাম জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। জ্যাঙ্গু দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রান বাড়ান। অন্যদিকে উইকহামও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সীমানা খুঁজে নিতে থাকেন। তাদের ব্যাটেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।





















