সারাদেশ

অর্থাভাবে চিকিৎসা অনিশ্চিত, ছাত্রদল ও ইউএনওর সহায়তায় মা হলেন সাগরিকা

  হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ৫ নভেম্বর ২০২৬ , ১২:৫৪:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

উপজেলা পরিষদের ফটকে মায়ের কান্না, ছাত্রদল ও প্রশাসনের সহায়তায় মা হলেন সাগরিকা

 

অর্থাভাবে অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না মা মাধবী কর্মকার। প্রসববেদনায় কাতর মেয়েকে নিয়ে সহায়তার আশায় এসেছিলেন উপজেলা পরিষদে। সেখানে মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ফটকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর আকুতি শুনে এগিয়ে আসেন উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় সাগরিকাকে। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে সন্তান জন্ম দেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিক পর্যন্ত ঘটে এ ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাণীশংকৈল পৌর শহরের নয়নপুর মহল্লার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মাধবী কর্মকারের মেয়ে সাগরিকা কয়েক মাস আগে স্বামীকে হারান। সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলেও চরম আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে মেয়েকে নিয়ে সহায়তার আশায় উপজেলা পরিষদে আসেন মাধবী।

সেখানে সাগরিকার প্রসববেদনা বেড়ে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের নেতা রাব্বি হোসেনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে আসেন। তাঁরা দ্রুত সাগরিকাকে স্থানীয় মাতৃসেবা ক্লিনিকে ভর্তি করেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান।

খবর পেয়ে ক্লিনিকে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান। তিনি সাগরিকার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন, পরিবারের আর্থিক অসহায়ত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সহায়তা দেন এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্যোগ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সন্তান জন্ম দেন সাগরিকা। নবজাতকের আগমনে দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার পর স্বস্তি ফিরে আসে পরিবারে।

ছাত্রদল নেতা রাব্বি হোসেন বলেন, ‘মাধবী মাসির কান্নার শব্দ শুনে আমরা আর স্থির থাকতে পারিনি। সাগরিকার অবস্থা জানার পর দ্রুত তাঁকে ক্লিনিকে ভর্তি করি এবং ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি জানাই। এমন একটি মানবিক কাজের অংশ হতে পেরে আমাদের হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে গেছে।’

ইউএনও ইশরাত জাহান বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা সাগরিকার অসহায়ত্বের কথা শোনামাত্রই আমি ক্লিনিকে ছুটে যাই। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে তাঁর সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি এবং ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা সহায়তা করেছি। বিশেষ করে আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা অত্যন্ত চমৎকার ভূমিকা পালন করেছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে প্রশাসন ও যুবসমাজ এভাবেই ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করবে।’

নবজাতকের জন্ম ও চিকিৎসার ব্যবস্থা হওয়ায় ইউএনও এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাধবী কর্মকার। এ মানবিক উদ্যোগে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলীসহ স্থানীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা পরিষদের ফটকে এক মায়ের অসহায় কান্না থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত একটি নবজাতকের আগমনের আনন্দে রূপ নেয়। দুঃসময়ে একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে মানবিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আরও খবর

Sponsered content