প্রতিনিধি ১৬ জুলাই ২০২৬ , ৯:১২:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারের পর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের দ্বিতীয়ার্ধের বদলি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনি। তার মতে, রক্ষণাত্মক পরিবর্তন দেখে মাঠেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে কিছুক্ষণ পরই গর্ডনকে তুলে নিয়ে এজরি কনসা, ড্যান বার্ন ও নিকো ও’রিলিকে মাঠে নামান টুখেল।
কিন্তু সেই পরিবর্তন উল্টো ফল দেয়। ৮৫তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেস সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেস জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে নেন।
এক গোলের লিড ধরে রাখতে গিয়ে ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল অনেকের কাছেই ২০২০ সালের ইউরোপীয় আসরের ফাইনালে ইতালির কাছে হারের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তখনও একই ধরনের কৌশলের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন সাবেক প্রধান প্রশিক্ষক গ্যারেথ সাউথগেট। ২০২৪ সালের ইউরোপীয় আসরের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষেও একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।
রুনি বলেন, ‘আপনি যদি আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হন, ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর দেখেন কোচ একের পর এক রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নামাচ্ছেন, তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। বারবার এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তখন মনে হবে, এতক্ষণ রক্ষণ সামলে কীভাবে টিকে থাকব? এটাই ছিল এক ধরনের আতঙ্ক।’
ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও টুখেলের কৌশলের সঙ্গে সাউথগেটের মিল খুঁজে পেয়েছেন।
হার্ট বলেন, ‘গ্যারেথ সাউথগেট নিশ্চয়ই বাড়িতে বসে এই ম্যাচ দেখছিলেন। বড় ম্যাচে এগিয়ে থাকার পর রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ার জন্য তিনি অনেক সমালোচনা শুনেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আজও আমি ভিন্ন কিছু দেখিনি। টমাস টুখেলকে আমরা যতই প্রশংসা করি না কেন, এত দ্রুত রক্ষণাত্মক পরিবর্তন আনা আসলে প্রমাণ করে তিনি নিজের দলকেই বিশ্বাস করেননি। তিনি মনে করেননি, তাঁর দল আর্জেন্টিনাকে আরও চাপে ফেলতে পারবে।’
সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ধারাভাষ্যেই বলেছিলাম, মাঠে তখন ছয়জন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ছিল। তিনি সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলে শুধু ব্যবধান ধরে রাখতে চেয়েছিলেন।’
শিয়ারার আরও বলেন, ‘নরওয়ে বা মেক্সিকোর বিপক্ষে হয়তো এমন কৌশল কাজে এসেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে তা সম্ভব নয়। তাদের বল নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ আর সুযোগ কাজে লাগানোর সামর্থ্য অনেক বেশি।’
তিনি বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়িই তিনি সব রক্ষণাত্মক তাস খেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেটি উল্টো ফল দিয়েছে। এসব সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।’
‘মেক্সিকোর বিপক্ষে আমরা তার প্রশংসা করেছি। এখন সমালোচনাও করতেই হবে। তিনি কি গতি বাড়ানোর মতো কোনো খেলোয়াড় নামাতে পারতেন না? আর্জেন্টিনা সমতা ফেরানোর পর ইংল্যান্ড মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল।’
রুনির মতে, এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ড।
তিনি বলেন, ‘এটি ছিল নিছক আতঙ্ক। এক গোলে এগিয়ে গিয়ে আপনি বলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে পারেন না। দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা ছেড়ে দেওয়াও ঠিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাকেই আক্রমণে থাকতে হবে। চাপটা আর্জেন্টিনার ওপর ছিল। তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, ট্যাকল করতে হবে, পেছনে দৌড় দিতে হবে। তাহলেই তারা চাপে পড়ত।’
‘কিন্তু আপনি যদি এত মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দের নিজের বক্সের সামনে বল নিয়ে খেলতে দেন, তাহলে তারা একসময় গোল করবেই।’
ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক ফরোয়ার্ড মাইকেল ওয়েনও স্পেনের উদাহরণ টেনে ইংল্যান্ডের সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘গত রাতে স্পেন ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও যেভাবে খেলেছে, সেটিই সাহস। আর ইংল্যান্ডের খেলা দেখুন। পার্থক্যটা কোথায়?’
ওয়েন আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারেরই যোগ্য ছিলাম। এমনকি ব্যবধান ৪-১ও হতে পারত।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘১-০ গোলে এগিয়ে থেকে তিনজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নামানোর অর্থ কী? এতে দলের কাছে কী বার্তা যায়?’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘মেক্সিকো ম্যাচের পরই লিখেছিলাম, চাপের মধ্যেও বলের দখল ধরে রাখাই আসল সাহস। অযথা দূরে বল পাঠিয়ে দেওয়া নয়। আমরা যতদিন এটি না বুঝব, ততদিন এমন পরিণতিই আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে।’





















