প্রতিনিধি ১৬ জুলাই ২০২৬ , ৯:০০:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মাঠেই নিজেদের দেশের মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জের দাবির সমর্থনে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার। ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছিলেন, তিনি চান না এই ম্যাচটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠুক।
তবে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে শেষ পাঁচ মিনিটে দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর কয়েকজন খেলোয়াড় ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার হাতে উদ্যাপন করেন। পরে ব্যানারটি মাঠেই রেখে যান তারা।
মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন সেনাসদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য এবং দ্বীপপুঞ্জের ৩ জন বাসিন্দা নিহত হন।
আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরেই মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। দ্বীপপুঞ্জটি গ্রেট ব্রিটেন থেকে প্রায় ৮ হাজার মাইল দূরে হলেও আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
বিশ্ব ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বড় টুর্নামেন্টে রাজনৈতিক পতাকা, স্লোগান বা প্রতীক প্রদর্শনের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সরঞ্জাম বা পোশাকে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বার্তা কিংবা ছবি থাকতে পারবে না। একইভাবে অন্তর্বাসে এ ধরনের কোনো বার্তা বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো বিজ্ঞাপনও প্রদর্শন করা যাবে না।
নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, দল কিংবা জাতীয় ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের আয়োজক, জাতীয় ফুটবল সংস্থা অথবা ফিফা ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে মন্তব্য চেয়েছে সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন।
এর আগে ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।





















