স্টাফ রিপোর্টার ৫ নভেম্বর ২০২৬ , ১:০৩:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
ডিএসসিসি নির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে সালাম-নেওয়াজ, আলোচনায় আরও দুই নেতা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম সামনে আসার পর বিএনপির মনোনয়ন নিয়েও দলটির ভেতরে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আনার বিষয়টি। অন্যদিকে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসক আবদুস সালাম। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নগর প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগকে মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা।
অন্যদিকে ছাত্র ও যুবরাজনীতির অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে মীর নেওয়াজ আলীর পক্ষেও তৃণমূলের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করছেন তাঁর অনুসারীরা। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রসংসদে ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাবেক ভিপি মীর নেওয়াজ পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক। দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি সমর্থকদের।
সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে মীর নেওয়াজ আলী বলেন, ‘পদ-পদবির চেয়ে সবসময় সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশে থাকাটাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল। অতীতের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আজও আমরা তৃণমূলের সঙ্গেই আছি এবং মাঠের রাজনীতিতেই সক্রিয় রয়েছি।’
এদিকে আবদুস সালাম ও মীর নেওয়াজ আলীর বাইরে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং ইশরাক হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে। ফলে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিএসসিসি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নগরীর ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলটি অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে বেছে নেয়, নাকি ছাত্র ও যুবরাজনীতিতে পরিচিত মুখকে সামনে আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।















