বিশেষ প্রতিবেদন

বহিষ্কারের পরও সক্রিয় মনির: গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন

  নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১০:৪২:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মহাখালীর ‘হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল’-এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় প্রধান আসামি বনানী থানা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মনির হোসেন এখনো গ্রেপ্তার এড়াচ্ছেন। বহিষ্কারের পরও তাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে মহাখালীর ওই হোটেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ভিআইপি রুম না পাওয়া এবং বিল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালায় এবং লুটপাট করে। এ ঘটনায় বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়।

ঘটনার পর সমালোচনার মুখে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এক বিবৃতিতে মনির হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, বহিষ্কারের পরও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। বনানী ও মহাখালী এলাকায় তার নামে ব্যানার-ফেস্টুনও দেখা গেছে, যেখানে তিনি নিজেকে ‘আহ্বায়ক, বনানী থানা যুবদল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত কেউ দলের নাম ব্যবহার করলে তা অবৈধ। এ বিষয়ে প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সেদিনের ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আমি দলের কর্মসূচিতে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিই। ব্যানারগুলো কর্মীরা দিয়েছে।”

মহাখালী এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী এডভোকেট রাইহান আহমেদ বলেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।”

এদিকে মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও মনির হোসেন গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আরও খবর

Sponsered content