সোহেল খান দুর্জয়, নেত্রকোনা ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:২৭:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার মদন কোচ শাসিত অঞ্চলে, নদীঘেরা ছায়াঢাকা পরিবেশে হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাহ:) ১০৫৩ সালের কাছাকাছি সময় ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আগমন করেন। তিনি ছিলেন তুর্কি জাতির এবং পশ্চিম এশিয়ার সেলজুক রাজবংশের সদস্য। রোম সাম্রাজ্য বিজয়ী তুরস্ক রাজ্যের কনিষ্ঠ ভ্রাতা হিসেবে তাকে শাহ সুলতান উপাধিতে অভিহিত করা হয়।
শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাহ:) ১২০ জন সুফি সাধকের দল নিয়ে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূল থেকে পদার্পণ করেন। এরপর দলটি ধর্ম প্রচারের জন্য কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পাণ্ডুয়ার মহাস্থানগড় অভিমুখে রওনা হয়। সেখানে তারা প্রভাবশালী রাজা পরশুরামকে ইসলামের দাওয়াত দেন।
দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করায় রাজা পরশুরামের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এই যুদ্ধে ১২০ জন দাওয়াতি দলের মধ্যে সাতজন বীর আউলিয়া শহীদ হন, যার মধ্যে ছিলেন হযরত শাহ সুলতান সৈয়দ মাহমুদ মাহিসোয়ার। তার সমাধি বগুড়ার মহাস্থানে ‘হযরত শাহ সুলতানের মাজার’ নামে পরিচিত।
শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাহ:) পরবর্তী সময়ে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে পরশুরামকে শান্তিপূর্ণ প্রস্তাব পাঠান, যা প্রত্যাখ্যানের পর তিনি পুনরায় রণপ্রস্তুতি নিয়ে রাজাকে পরাজিত করেন এবং বরেন্দ্রভূমি দখল করেন। এসময় স্থানীয় জনগণ দলে দলে ইসলামের পতাকায় সমবেত হতে শুরু করে।
এরপর শাহ সুলতান কায়কাউস বাহিনীসহ জামালপুরের (বর্তমান) দুর্মুট এলাকায় আস্তানা স্থাপন করেন। ধর্মীয় প্রচার নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার পর ১৩ জন আউলিয়ার একটি দল পুনরায় মহাস্থানগড়ে পাঠানো হয়।
শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাহ:) ব্রহ্মপুত্র নদীর পুবপাশে কামরূপ এলাকার সামন্ত রাজাদের এলাকায় ইসলাম প্রচারের জন্য এগিয়ে যান। কায়কাউস বাহিনী মদন কোচের রাজ্যের দিকে যাত্রা শুরু করলে, মদনকোচ বাহিনী সম্পর্কে খবর পেয়ে আশ্বস্ত হন। শাহ সুলতান (রাহ:) প্রথমে দামছাপুর (নন্দিপুর) গ্রামে আস্তানা স্থাপন করেন এবং পরে কাংসার ঘাটে স্থায়ী অবস্থান নেন।
অবশেষে মদনকোচের রাজ্যেও প্রবেশ করেন এবং নামাজ আদায় শেষে স্থানীয় মানুষের অনুগতি ও সহায়তা নেন, যা পরবর্তীতে ইসলামের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই ঘটনাবলি তুলে ধরে দেখা যায়, হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাহ:) এবং তার আউলিয়া দল বরেন্দ্রভূমিতে ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ সম্প্রসারণে অসামা




















