সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২:৫৬:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চারিয়া থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের এক সপ্তাহের মধ্যেই পিচ উঠে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক হাত দিয়ে সহজেই সড়কের পিচ তুলে ফেলছেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলে তারা খুশি হয়েছিলেন। তবে কাজ শেষ না হতেই এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, দায়সারাভাবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭০ মিটার সড়কটি সংস্কার করছে মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্টে। তবে কাজ চলাকালেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, “মাত্র সপ্তাহখানেক আগে পিচ ঢালাই করা হয়েছে, এখন হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে। এভাবে রাস্তা টেকসই হবে না।”
তাজ্জত আলী বলেন, “নামমাত্র বিটুমিন দিয়ে কাজ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের লোকজন আমাদের হুমকি দিয়েছে।”
চারিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, “এই রাস্তা এক মাসও টিকবে না।”
চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, “সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, কিন্তু কাজের মান এমন হলে তা শুধু টাকার অপচয়।”
সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, কার্পেটিংয়ের পরদিনই সমস্যাটি ধরা পড়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন, “রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়টি নজরে এসেছে। প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।”
তবে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।




















