বিশেষ প্রতিবেদন

সাধারণ ঘরে জন্ম, সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান: রুমিন–হাসনাত বিতর্কে নতুন আলোচনার ঝড়

  লিখেছেন - আতাউল্লাহ মুন্সী ২৯ আগস্ট ২০২৫ , ১০:৩০:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ


বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে প্রজন্মভিত্তিক নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দুই ভিন্ন ঘরানার প্রতিনিধি—ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মী হাসনাত আব্দুল্লাহ।

রুমিন ফারহানা লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি করেছেন। তার বাবা ছিলেন স্বাধীনতা পুরস্কারজয়ী রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক ও লেখক। অন্যদিকে, হাসনাতের পরিবার কৃষক ঘরের। তার বাবা ছিলেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, যাঁর মুখে গ্রামবাংলার সরল হাসি এবং জীবনের পরিশ্রমের ছাপ।

শিক্ষাজীবনে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দু’জনের রাজনৈতিক অবস্থান ও জীবনদর্শনে মিলছে তীব্র বৈপরীত্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করা হাসনাত বড় চাকরি বা মোটা অঙ্কের আয়ের সুযোগ এড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ বদলানোর সংগ্রামে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন। তার কণ্ঠেই শোনা গেছে— “উই আর ওপেন টু কিল্ড”—যা সময়ের দাবি হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে নাড়া দিয়েছে।

অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার বংশপরিচয়ও আলোচনায়। তার দাদা ব্রিটিশ আমলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। একদিকে ব্রিটিশরা বিপ্লবীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছিল, অন্যদিকে তার দাদা তখনও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রাজনীতির উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গও এসেছে আলোচনায়। রুমিনের বাবা একসময় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। তবে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের সেরা সময়ে তিনি দল ছাড়েন এবং শেখ মুজিবের বিরোধিতা করে গ্রেফতারও হন।

সমাজের আলোচনায় বলা হচ্ছে, যেখানে রুমিন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রভাবশালী পরিবারে বড় হয়েছেন, সেখানে হাসনাত একেবারেই সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন।

জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য না হলেও, রুমিন ফারহানা, মেহের আফরোজ শাওন ও হাসনাত—তিনজনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বড় অমিল হচ্ছে—শাওন ও রুমিন ধনী ঘরে জন্ম নিয়েও সাধারণ মানুষের মতো আলো ছড়াতে পারেননি, অথচ হাসনাত সাধারণ ঘরে জন্ম নিয়ে সিংহের মতো উঠে এসেছেন।

২৬ বছর বয়সী হাসনাত আজ রাজনীতির অঙ্গনে ৬০ বছরের অভিজ্ঞ নেতাদেরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে এক নতুন যুগের—যেখানে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা তরুণ প্রজন্ম।

আরও খবর

Sponsered content