বিশেষ প্রতিবেদন

বনানী বিদ্যানিকেতনে অধ্যক্ষের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযো

  বিশেষ প্রতিনিধি: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:৪৪:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

 রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এ প্রচলিত প্রশাসনিক বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব ধরে রাখা এবং অনৈতিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একাধিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন ছিল অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মশিউর রহমানের শেষ কর্মদিবস। তবে নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন কারও হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পদে বহাল রাখেন, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নীতিমালার চরম পরিপন্থী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান সানীকে ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ শিক্ষকদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা সভাপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এ ধরনের কার্যক্রম প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কোনো ধরনের অনাপত্তিপত্র (NOC) বা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ছাড়াই গভর্নিং বডির একক সিদ্ধান্তে তাকে ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ’ দেখিয়ে পদে বহাল রাখা হয়েছে। সরকারি বা অনুমোদিত নীতিমালা উপেক্ষা করে কেবল পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে এভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর করা প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে জোর সমালোচনা চলছে।
এছাড়া ড. মোহাম্মদ মশিউর রহমানের ব্যবহৃত “ড.” (ডক্টরেট) উপাধি ও ডিগ্রি নিয়েও শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মনে নানা সংশয় ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, যদি তিনি বৈধ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঠিকভাবে এই ডিগ্রি অর্জন করে থাকেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও সনদ জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। এতে করে ডিগ্রির সত্যতা নিশ্চিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে।
একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে বিষয়ে নজর দিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজ।

আরও খবর

Sponsered content